শিরোনাম :
নবীনগরে সাংবাদিকদের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ আলমের মতবিনিময় নবীনগরে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ও শেখ হাসিনা একাডেমিক ভবন উদ্বোধন নবীনগরে ২৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমি সহ পাকাঘর প্রদান নবীনগরে পিস্তলসহ এক যুবক গ্রেফতার নবীনগরে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরির আঘাতে পিতা হাসপাতালে- অবস্থা শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় ঢাকায় প্রেরণ  নবীনগর পৌরসভার মেয়র শিব শংকর দাশ ৩ হাজার তালের চারা গাছ রোপন করেছেন নবীনগরে ২দিন ব্যাপী সাহিত্য মেলার উদ্বোধন নবীনগরে তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩০ নবীনগরে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর আটক (১)। নবীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান  ফুল মিয়ার কুলখানি সম্পন্ন
বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০২:৩২ অপরাহ্ন

বরুড়ায় ব্যক্তি মালিকানা ঘাটলা দেখিয়ে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাতের অভিযোগ!

প্রতিনিধির নাম / ১৩১ বার
আপডেট : শনিবার, ৮ জুলাই, ২০২৩

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লায় পূর্বে ব্যক্তি মালিকানা অর্থে নির্মিত পুকুরের ঘাটলা দেখিয়ে উপজেলা পরিষদের উন্নয়ন তহবিল (রাজস্ব উদ্ধৃত) এর আওতায় পিআইসি বরাদ্দের ২লাখ টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগ ওঠেছে রাধা রানী নামের এক ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত নারী সদস্যের বিরুদ্ধে। সাথে জড়িত তার ছেলে যুবলীগ নেতা কৃষাণ তালুকদার।

জেলার বরুড়া উপজেলার ঝলম ইউনিয়নের বেওলাইন গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত রাধা রাণী তালুকদার ঝলম ইউনিয়নের ৭, ৮ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য। ইউপি সদস্য রাধা রাণী তালুকদার ছেলে কৃষাণ তালুকদার একজন স্থানীয় যুবলীগ নেতা। যুবলীগ নেতা পদ পরিচয় বহন করে এই ধরনের কাজের সাথে সম্পৃক্ত বলে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ।

এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর স্থানীয়দের পক্ষে এক ব্যক্তি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) এর কাছে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে সে অভিযোগ গ্রহণ না করেই অভিযোগকারীকে ফিরিয়ে দেন ইউএনও।

এমন অভিযোগের সত্যতা যাছাইয়ের জন্য সরেজমিনে বরুড়া বেওলাইন দেখা যায়, স্থানীয় জনগণ সূত্রে জানাযায় ওই গ্রামে সরকারি অনুদানে কোন পুকুরের ঘাটলা নেই, সব ব্যক্তি মালিকানা ঘাটলা। বেওলাইন দেবনাথ বাড়ি দিঘিতে কয়েকটি ঘাটলা রয়েছে, সেখানে সব ঘাটলা ব্যক্তি মালিকান। বেওলাইন গ্রামে কোথায়ও কোনো সরকারি ঘাটলা অস্থিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. মোস্তফা বলেন, বেওলাইন কোনো সরকারি কোন পুকুরের ঘাটলা নেই। বেওলাইন দেবনাথ ডাক্তার বাড়ি দিঘীতে কয়েকটি ঘাটলা আছে, সেইগুলো সব ব্যক্তি মালিকানা।

উপজেলা সূত্রে জানাযায় চলতি বছরের মার্চ মাসের ৯ তারিখ উপজেলা পরিষদের মাসিক মিটিংয়ে বেওলাইন গ্রামে একটি ঘাটলা নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। ওই প্রস্তাব গ্রহণ করে ওই মিটিংয়েই উন্নয়ন তহবিল (রাজস্ব উদ্ধৃত) এর আওতায় ২০২২-২৩ অর্থ বছরের পিআইসি বরাদ্দ থেকে ২ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বরাদ্দে সভাপতি করা হয় ঝলম ইউনিয়নের ৭, ৮ এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী সদস্য রাধা রাণী তালুকদার।

চলতি বছরের জুনে সেই বরাদ্দের কাজ শেষ করা হয়েছে মর্মে যাবতীয় কাগজপত্র জমা দিয়ে বরাদ্দের ২লাখ টাকা তুলে নেন রাধা রাণী তালুকদার ও তার ছেলে কৃষাণ তালুকদার। কিন্তু যে ঘাটলাটির কথা উল্লেখ করা হয়েছে সেটি ৩-৪ বছর আগে ব্যক্তি মালিকানা অর্থে নির্মাণ করা হয়েছিল এমনটাই দাবি স্থানীয়দের। এই ঘাটলাটি ২০১৭ সালে রাজমিস্ত্রী জহির হোসেন দৈনিক হাজিরা ভিত্তেতে নির্মাণ করেন।

এ ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর বেওলাইন গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আবু তাহেরের ছেলে নাজমুল হুদা ইকবাল বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাবরিনা আফরিন মুস্তফা বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দিতে যান গত মঙ্গলবার (৪ জুলাই)। কিন্তু উপজেলা নির্বাহী অফিসার সে অভিযোগ গ্রহণ করেননি।

অভিযোগে নাজমুল হুদা ইকবাল উল্লেখ করেন, আমি বেওলাইন গ্রামের একজন বাসিন্দা। আমার জানামতে বেওলাইন গ্রামেই সরকারি অর্থায়নে নির্মিত কোনো ঘাটলা নেই। প্রকৃতপক্ষে বরাদ্দের অর্থ আত্মসাতের জন্য প্রতারণার আশ্রয় নেন নারী সদস্য রাধা রানী তালুকদার ও তার ছেলে কৃষাণ তালুকদার। এ বিষয়ে নাজমুল হুদা ইকবাল আরও বলেন, আমি গত মঙ্গলবার এ বিষয়ে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত চেয়ে বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে তিনি আমার আমার অভিযোগটি গ্রহণ করেননি। তিনি আমাকে বলেন, এটি আমার আওতার বাইরে। আমি স্থানীয় সরকার বিভাগে লিখিত অভিযোগটি দিবো।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত রাধা রানী তালুকদারকে ফোন করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। কিন্তু তার ছেলে কৃষাণ তালুকদার গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন নাহার শিখার কাছে টাকা পাওনা সে টাকা দিতে না পেরে আমাকে প্রকল্প দিবে বলে পরে সময় সুযোগ বুঝে ঘাটলার এই প্রকল্প দিয়ে আমার টাকা পরিশোধ করে। তবে আমার বিরুদ্ধে

 

পারিবারিক এবং রাজনৈতিক বিরোধের জেরে এমন অভিযোগ তোলা হয়েছে। টেন্ডার হওয়ার আগে ঘাটলা নির্মাণ করা হয়েছে। ২০২২-২৩ অর্থ বছরেই ঘাটলাটি নির্মাণ করা হয়েছে। টেন্ডার হওয়ার পর আমরা কাগজপত্র সাবমিট করে বিল উত্তোলন করেছি। টেন্ডার হওয়ার আগে ঘাটলাটি নির্মাণ করা হলেও তার মাপঝোঁক, নির্মাণ সামগ্রীর সঠিক ব্যবহারই করা হয়েছে।

পুকুর ঘাটলা নির্মাণ উপজেলা প্রজেক্টের সভাপতি ও উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কামরুন্নাহার শিখা বলেন, এই বিষয়ে মুঠোফোনে মন্তব্য করতে আমি রাজি নয়।

এবিষয়ে বরুড়া উপজেলা প্রকৌশলী শাহীনুর হোসেন বলেন, এমন ঘটনা হলে এই প্রকল্প বাতিল করে টাকা নিয়ে নেওয়া হবে। এই প্রকল্পের রেজুলেশন কপি দেখতে চাইলে তিনি উপজেলা চেয়ারম্যানের সিও মোঃ মাহবুবকে বলেন কিন্তু তিনি রেজুলেশন কপি কিংবা প্রকল্প কমিটি তথ্য দিতে পারবেন না। ইউএনও নির্দেশ না দিলে। পরবর্তী ইউএনও মৌখিক নির্দেশ দেওয়ার পরেও তার কাছে তেমন একটি সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। জানাযায় সিও মাহবুব আলম স্থানীয় উপজেলা বাসিন্দা হওয়ার কারনে তার প্রভাব বিস্তার অনেকটা বেশি। এমনটি অভিযোগ করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা।

বরুড়া উপজেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রকৌশলী শাহীনূর হোসেন বলেন, এমন কোনো ঘটনা ঘটলে প্রকল্পের অর্থ ফেরত নেওয়া হবে। আমরা বিষয়টি দেখবো, এমন কোনো ঘটনা আছে কি না।

বরুড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ( ইউএনও) সাবরিনা মোস্তফা মুঠোফোনে এই বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি এই বিষয়ে অফিসে এসে কথা বলেন, এই বলে মুঠোফোনের লাইন কেটে দেন।

বরুড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এএনএম মঈনুল ইসলামকেও মুঠোফোনে পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে কুমিল্লা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, আমি এসব বিষয়ে খুব পজিটিভ। উপজেলা পরিষদের এমন কোনো বরাদ্দ ছিল কি না কিংবা বরাদ্দ হয়ে থাকলেও কী ঘটেছিল তা উপজেলা পরিষদের মাধ্যমে আমি এ বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে ব্যবস্থা নিবো।

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম আলম বলেন, উপজেলা পরিষদের বরাদ্দে অনিয়ম হলে লিখিত অভিযোগটা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বরাবর দিলেই ভালো হয়। ইউএনও অভিযোগ রাখ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ