শিরোনাম :
নবীনগরে রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে ফসলি জমি কাটার সময় ইউএনও’র বিশেষ অভিযানে আটক ৩  আর কখনো পাঠকের হাতে পত্রিকা তুলে দিবেন না লোকমান হেকিম চৌধুর নবীনগরে সাংবাদিকদের সাথে উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী শাহ আলমের মতবিনিময় নবীনগরে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ও শেখ হাসিনা একাডেমিক ভবন উদ্বোধন নবীনগরে ২৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমি সহ পাকাঘর প্রদান নবীনগরে পিস্তলসহ এক যুবক গ্রেফতার নবীনগরে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরির আঘাতে পিতা হাসপাতালে- অবস্থা শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় ঢাকায় প্রেরণ  নবীনগর পৌরসভার মেয়র শিব শংকর দাশ ৩ হাজার তালের চারা গাছ রোপন করেছেন নবীনগরে ২দিন ব্যাপী সাহিত্য মেলার উদ্বোধন নবীনগরে তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩০
শনিবার, ০২ মার্চ ২০২৪, ১১:৩৪ পূর্বাহ্ন

ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে নবীনগরে ‘জামানত’ এর কোটি টাকা নিয়ে ‘ভিডিসি’ নামের একটি এনজিও উধাও!

প্রতিনিধির নাম / ১৭৮ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২২ জুন, ২০২৩

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার বিদ্যাকুট গ্রামে স্বল্প সুদে দীর্ঘমেয়াদী কিস্তিতে ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে জামানত বাবদ জমা করা গ্রাহকদের কোটি টাকা নিয়ে ‘ভিলেজ ডেভলপম্যান্ট সেন্টার (ভিডিসি) নামের একটি ভূয়া এনজিও উধাও হয়ে গেছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এলাকায় মাত্র ৫ দিন অবস্থান করে নামসর্বস্ব ওই ভূয়া এনজিও’র প্রতারকেরা গ্রামের প্রায় শতাধিক মানুষের কাছ থেকে জামানতের ওই কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছে বলে ভূক্তভোগীরা অভিযোগ করেন।

এলাকার ভূক্তভোগী ও স্থানীয় পুলিশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত বিদ্যাকুট গ্রামে ব্যবসায়ী খায়ের মিয়ার বাড়িতে গত ১৪ জুন ‘ভিলেজ ডেভলপম্যান্ট সেন্টার’ নামে ওই এনজিও’র লোকজন অফিস ভাড়া নেন। এরপর তারা মাত্র পাঁচদিন গ্রামে ঘুরে ঘুরে দীর্ঘ মেয়াদী কিস্তিতে ও স্বল্প সুদে নগদ টাকা ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে শতাধিক মানুষকে এর সদস্য করেন।
এলাকার সাদ্দাম মিয়া, জসিম উদ্দিন, জুলেখা খাতুন, দিলরুবা বেগমসহ অসংখ্য ভূক্তভোগী অভিযোগ করে বলেন,’এক লাখ টাকা ঋণ নিলে মাত্র সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা সুদসহ দুই বছরে সহজ কিস্তিতে ওই এক লাখ সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হবে। আর ওই লাখ টাকা ঋণ পেতে হলে, জামানত বাবদ ১০ হাজার টাকা তাদের কাছে জমা রাখতে হবে। অনুরূপ ঋণের পরিমাণ ২ লাখ হলে ২০ হাজার, পাঁচ লাখ হলে ৫০ হাজার টাকা জামানত রাখতে হবে।’
এলাকার লোকজন জানান, এমন প্রলোভনের ফাঁদে পড়ে গ্রামের শতাধিক মানুষ ঋণ পেতে গত পাঁচদিন ধরে এনজিও কার্যালয়টিতে ভীড় জমায়। এরপর ঋণ পাওয়ার লোভে কেউ ১০ হাজার, কেউ ২০ হাজার এমনকি কেউ কেউ ৫০ হাজার টাকাও এনজিও কর্মকর্তাদের কাছে জামানত বাবদ টাকা জমা করে।
ভূক্তভোগীরা জানান, জামানতের টাকা জমা করার পর ১৯ জুন সোমবার প্রত্যেককে জামানত অনুযায়ি ঋণের সমুদয় টাকা বুঝিয়ে দেয়া হবে বলে ঋণগ্রহীতাদের আবেদন পত্রও (ফর্ম) জমা রাখা হয়। কিন্তু নির্ধারিত তারিখে (১৯ জুন) ভূক্তভোগীরা ওই এনজিও অফিসে গিয়ে তালা ঝুলতে দেখে সবাই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
বাড়ির মালিক খায়ের মিয়া বলেন,’আমারে বাড়ি ভাড়ার এডভান্স, বাড়ির ভাড়া ও আসবাবপত্র ক্রয় বাবদ প্রায় ৪ লাখ টাকা দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু এক টাকাও পাইনি। আসলে এই প্রতারক চক্র যে এত অল্প সময়ে এমন বাটপারী করে মানুষের কোটি টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাবে, সেটি ঘুনাক্ষরেও বুঝতে পারিনি।’
স্থানীয় শিবপুর পুলিশ ফাঁড়ির এস আই শেখ কামাল উদ্দিন ঘটনাস্থল ঘুরে এসে বলেন,’শুনেছি, পাঁচ সদস্যের ওই প্রতারক চক্র সকালে বিদ্যাকুটের ওই অফিসে আসতেন এবং সারাদিন সদস্য সংগ্রহসহ জামানতের টাকা গ্রহণ করে সন্ধ্যায় চলে যেতেন। ওরা রাতে সেখানে নাইটহোল্ডও করতেন না। এরপরও মানুষ কিভাবে খোঁজখবর না নিয়ে ঋণের টাকা না পেয়েই ১০ হাজার, ৫০ হাজার টাকা জামানত রাখেন, আমার মাথায় আসেনা।’
এস আই শেখ কামাল আরও জানান,’এখনও এ বিষয়ে কোন ভূক্তভোগী আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে, ব্যবস্থা নেয়া হবে।’
এ বিষয়ে কথা বলতে বিদ্যাকুটের ইউপি চেয়ারম্যান জাকারুল হকের মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও, তিনি কল রিসিভ করেননি।
তবে নবীনগরের সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহমুদা জাহান বলেন,’বিষয়টি ফেসবুকে দেখেছি। এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবো।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ