Home / জাতীয় / সন্ধান মেলেনি পিনাকের; অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা

সন্ধান মেলেনি পিনাকের; অব্যবস্থাপনাকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা

৮ আগস্ট (তিতাস নিউজ):): বাংলাদেশের মুন্সিগঞ্জের পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়া পিনাক-৬ লঞ্চটির সন্ধান মেলেনি ৫ দিনেও। আদৌ লঞ্চটির খোঁজ পাওয়া যাবে কিনা, সে রকম কোন আশার বাণী নেই উদ্ধারকারীদের কাছেও। সোমবার লঞ্চটি ডুবে যাওয়ার পর থেকে এখনও চলছে অনুসন্ধান কাজ। উদ্ধারকারী জাহাজ ‘রুস্তম’, ও অনুসন্ধানকারী জাহাজ ‘নির্ভীক’কেও কাজে লাগানো হয়েছে। তাতেও কাজ না হওয়ায় নতুনভাবে আজ(শুক্রবার) সকালে অনুসন্ধান বহরে যোগ হয়েছে চট্টগ্রাম থেকে আসা দেশের সর্বাধুনিক ও বহুমুখী প্রযুক্তি সমৃদ্ধ টাগ বোট ‘জরিপ-১০’। কিন্তু কোন ফল আসে নি তাতেও।

দুর্ঘটনার ৫ দিন পরও পিনাক-৬ এর সন্ধান না পাওয়ার বিষয়ে, নিরাপদ নৌপথ বাস্তবায়ন আন্দোলনের সদস্য সচিব আমিনুর রসুল বাবুল রেডিও তেহরানকে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশ ভাল করলেও সড়ক দুর্ঘটনা বা নৌ দুর্ঘটনার বিষয়ে এখনও দুর্বলতা রয়ে গেছে। তাই তো ঢাকার অদূরে আমিনবাজারে বাস অগভীর নদীতে পড়ে গেলে তা উদ্ধারে ৭২ ঘন্টার বেশি সময় লাগে। সেখানে পদ্মার মতো গভীর আর প্রমত্তা নদীতে দ্রুত উদ্ধার হবে, এমনটা আশা করা যথার্থ নয়। তিনি আরও বলেন, এখানে নৌ দুর্ঘটনা নতুন কোন ঘটনা নয়। কিন্তু তা ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদী কোন পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয় না, স্থানীয় প্রশাসন ও লোকজনের তৎপরতার ওপরই নির্ভর করতে হয়। পদ্মা নদীতে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটলেও উদ্ধারকারী জাহাজ বা এ ধরনের কান যানবাহন এখনে থাকে না। যার কারণে উদ্ধারকারী জাহাজ আসতে যে সময় লাগে তাতে দুর্ঘটনা কবলিত লঞ্চ বা জাহাজ দূরে সরে যায় অথবা পলিতে ঢাকা পড়ে যায়। আবার দুর্ঘটনার পর আস্তে আস্তে তার রেশ কেটে যায়। এ বিষয়ে আর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়, নতুন দুর্ঘটনা না ঘটা পর্যন্ত। তাই এ ক্ষেত্রে দুর্যোগ ব্যবস্থপনা প্রায় ব্যর্থ হয়ে পড়ে বলে মনে করেন তিনি।

এর কিছুদিন আগে গজারিয়ায় মেঘনা নদীতে এমভি মিরাজ-৪ নামের একটি লঞ্চ ডুবিতে উদ্ধার হয়েছে ৫৪ জনের লাশ। যদিও এখনো অনেক যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে। ২০০৩ সালের জুলাই মাসে মেঘনা নদীর মোহনায় ‘এমভি নাসরিন’ লঞ্চ ডুবলে ছয় শতাধিক যাত্রীর মৃত্যু হয়। প্রায় একই কারণে বার বার দুর্ঘটনা কেন? এ বিষয়ে আমরা কথা বলেছি বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষের সাবেক সচিব সৈয়দ মনোয়ার হোসেনের সঙ্গে। রেডিও তেহরানকে তিনি বলেন, নৌ দুর্ঘটনার কারণ চিহ্নিত করার সমন্বিত কোনো পদ্ধতি বাংলাদেশে নাই। আর তদন্তে দুর্ঘটনার যেসব কারণ বের করা হয়, তা দুর করতে নেয়া কর্মপরিকল্পনার ধারাবাহিক বাস্তবায়ন দেখা যায় না। তাছাড়া এসব ঘটনা তদন্ত করেন সেইসব ব্যক্তিরা, যারা নৌ পরিবহনগুলো চলাচলের ক্ষেত্রে নিয়মিতভাবে দায়িত্ব পালন করেন। যার কারণে দোষী ব্যক্তিরা আড়ালেই থেকে যান। সেই সঙ্গে অব্যবস্থাপনা, অদক্ষতা, দুর্নীতির মতো মূল কারণগুলো আর প্রকাশ পায় না।

এজন্য মনোয়ার হোসেনের পরামর্শ, তদন্ত কাজ পরিচালনা ও দুর্ঘটনা ঠেকাতে নেয়া পদক্ষেপ বাস্তবায়ন স্বাধীন সেল গঠন করতে হবে। যাদের সঙ্গে দৈনন্দিন কার্যক্রমের কোন সম্পর্ক থাকতে পারবে না।

 

Check Also

কুমিল্লায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট ● কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমান চিকিৎসাসেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবা’হিনী, কুমিল্লা এরিয়া। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *