Home / রাজনীতি / মোশতাককে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করিয়েছেন জিয়া: শেখ হাসিনা

মোশতাককে দিয়ে বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করিয়েছেন জিয়া: শেখ হাসিনা

১৬ আগস্ট (তিতাস নিউজ): প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, “বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বেইমান হলেন খন্দকার মোশতাক। বিশ্বাসঘাতকতা করে মীর জাফর যেমন তিন মাসের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেননি ঠিক তেমনি মোশতাকও তিন মাসের বেশি ক্ষমতায় থাকতে পারেননি।”

তিনি দাবি করেন, “খন্দকার মোশতাককে ইশারা দিয়ে জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করিয়েছেন। সুতরাং বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ডে জিয়াউর রহমান যে জড়িত তা বলার আর অপেক্ষা রাখে না।”

আজ (শনিবার) সন্ধ্যায় বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘১৫ আগস্টের শোকসভা’র আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “১৫ আগস্ট সপরিবারে জাতির পিতাকে নির্মমভাবে হত্যা করে বিজয়ী বাঙালি জাতির ললাটে কলঙ্কতিলক এঁটে দিয়েছিল খুনিরা। বিজয়ী জাতিকে খুনির জাতি হিসেবে পরিচিত করেছিল।”

হাসিনা বলেন, “গণপ্রজাতন্ত্রের এই বাংলাদেশকে ইসলামিক রাষ্ট্র ‍বানানো হয়েছিল ৭৫ এর পরে। কিন্তু জনগণের চাপে তা ধরে রাখতে পারেনি। জিয়াউর রহমান সংবিধান পরিবর্তন করে মানবতাবিরোধী রাজাকার আলবদরদের দেশে ফিরিয়ে আনে। বঙ্গবন্ধুর নাম, স্বাধীন দেশকে পাকিস্তানের প্রদেশ বানানোর ষড়যন্ত্র করেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যার মাত্র ১৫ দিন আগে আমরা দেশ ছেড়ে গিয়েছিলাম। আমাদের দুর্ভাগ্য যে আমরা সেদিন বাংলার মাটি ছেড়ে গিয়েছিলাম। এরপর এসেছি ১৯৮১ সালে। জিয়াউর রহমান আমাদের দুই বোনকে দেশে ফিরতে দেননি।”

শেখ হাসিনা বলেন, “উপরে আল্লাহ ছাড়া আমি কারো কাছে মাথা নত করিনা। কাউকে ভয় পাই না। হারিয়েছি সব। পরিবারের আর কেউই বেঁচে নেই। আর কোনো কিছু হারাবার ভয় নেই আমার। তাই আমার জীবন আমি এদেশের মানুষের জন্য উৎসর্গ করেছি। আমি সুযোগ পেয়েছি এ দেশের মানুষের জন্য কিছু করার। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে চাই।”

দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন,  “এ দেশের মানুষ আমাদের সুযোগ দিয়েছে। প্রতিটি মুহূর্ত কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশকে ক্ষুধা, দারিদ্র্যমুক্ত দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই।”

বক্তৃতার একপর্যায়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি বলেন,  “২১ বছর এ দেশে বঙ্গবন্ধুর নাম নেয়াই নিষিদ্ধ ছিল। রেডিও-টিভিতে বঙ্গবন্ধুর নাম নেওয়া যেত না। সাহস করে কেউ নিতে চাইলে তাঁকে নির্যাতন করা হতো। কিন্তু শত চেষ্টা করেও মানুষের মন থেকে বঙ্গবন্ধুর নাম তারা মুছে দিতে পারেনি।”

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করছেন সংসদ উপনেতা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী।

Check Also

সংঘর্ষে যারা জড়িত ওরা আমাদের কেউ না

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি———————————————- মুরাদনগর ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ——————————————————————————————————————– ‘সংঘর্ষে যারা জড়িত ওরা আমাদের কেউ না’ ...