Home / সম্পাদকীয় / কবি ও কলামিষ্ট / বিনোদন ও প্রশান্তি
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ সহকারি শিক্ষক বাতাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় তিতাস, কুমিল্লা।

বিনোদন ও প্রশান্তি

একটু প্রশান্তির জন্য আমরা বিনোদন খুঁজি। বিনোদন বলতে আমরা সাধারণত টিভি দেখা, ভ্রমণ করা ইত্যাদি বুঝি।

পৃথিবীর কয়েকটি দেশে সপ্তাহে গড়ে কত ঘন্টা করে টিভির সামনে কাটায় তার একটি পরিসংখ্যান নিয়ে দেখা গেছে—ইংল্যান্ডে সপ্তাহে গড়ে ২৮ ঘন্টা মানুষ টিভির সামনে কাটায়, আমেরিকাতে সপ্তাহে গড়ে ৩৮ ঘন্টা মানুষ টিভির সামনে কাটায়, বাংলাদেশের মহিলারা সপ্তাহে গড়ে ৪৫ ঘন্টা মানুষ টিভির সামনে কাটায়, বাংলাদেশের পুরুষরা সপ্তাহে গড়ে ৩৫ ঘন্টা মানুষ টিভির সামনে কাটায়।

মাথাধরা, মাথাব্যথা, প্রায় ভুল করা, সন্দেহ প্রবনতা ইত্যাদি আক্রান্ত রোগীকে ডাক্তার প্রায় বলেন, রিলাক্সে থাকবেন, টেনসন করবেন না, প্রাকৃতিক সুন্দর এলাকায় ভ্রমণ করবেন অর্থাৎ প্রশান্তিতে থাকবেন। ইউরোপের অধিকাংশ রাষ্ট্রেই দেখা যায় সপ্তাহের ৬দিন নিজের জন্য প্রচুর কাজ করে এবং সপ্তাহের শেষের দিন নাইট ক্লাবে নেশা, মদ, এনার্জি ড্রিংক, জুয়া, ইত্যাদিতে মশগুল থাকেন, এতে করে সত্যিকারের বিনোদন তো হয় না বরং ক্ষতিকর দিকই লক্ষ্য করা যায় বেশি। যার ফলে বিবাহ-বিচ্ছেদ, কলহ, অসম প্রতিযোগিতা ইত্যাদি জ্যামিতিক হারে বেড়ে চলছে। তথাকথিত বিনোদন শব্দটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির (এনার্জি ড্রিংক/ ধূমপান/ এলকোহল/ ফাস্টফুড ইত্যাদি কোম্পানি) সৃষ্টি। তারা তাদের পন্য বিক্রির জন্য বিজ্ঞাপন, লোক দেখানো সেবামুলক কাজ, অফার, দীর্ঘস্থায়ী নেশা ইত্যাদি প্রয়োগ করে। পশ্চিমা দেশগুলোতে সারাদিন সবাই নিজের স্বার্থে কাজ করে। সেখানে অন্যের ও নিজের জন্যে কল্যানকর কোন কাজ তারা করে না। নিজের স্বার্থে কাজ করতে করতে তারা ক্লান্ত হয়। সপ্তাহ শেষে সেই ক্লান্ত মেটাবার অজুহাতে তারা মেতে ওঠে খরচ আর ভোগ বিলাসিতার বিকৃতিতে। কিন্তু একজন মানুষ যখন নিজের ও অন্যের কল্যাণে কাজ করে তখন তার ক্লান্ত থাকে না। যার ক্লান্ত নেই তার তথাকথিত বিনোদনেরও প্রয়োজন নেই।

আল্লাহ মানুষকে পরিশ্রমি করে সৃষ্টি করেছেন। আর আমরা নিজেরাই অলস স্বার্থবাদী হয়ে ভাগ্যকে দোষারোপ করে ভাগ্য বিড়ম্বনায় পড়ি। সত্যিকারের বিনোদন হচ্ছে অন্যের কল্যানে সময় ব্যয় করা। এতে প্রশান্তি আসে হৃদয়ের গভীর থেকে। যার ফলে নির্লোভী, স্বার্থহীনকাজ, অন্যের কল্যান করা, নিঃস্বার্থ সেবা ইত্যাদি কাজ করা হলো বিনোদন। নিজের ও অন্যের উপকারে কাজ করলে স্ট্রেস, মাথাধরা, মাথাব্যথা, প্রায় ভুল করা, সন্দেহ প্রবনতা ইত্যাদি রোগ-বালাই চিরতরে দূর হবে এবং তথাকথিত বিনোদনের প্রয়োজন হবে না।

তথ্যসূত্রঃ হাজারো প্রশ্নের জবাব ১ মেডিটেশন—মহাজাতক

Check Also

মুক্তির মিছিলে

মোহাম্মদ শাহজাহান: চির তারুন্যে সমুজ্জল, সায়্যিদউল্লাহ খাঁন, যার মধ্যে ছিল রূপ, রস, সৌরভের হাতছানি। যিনি ছিলেন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *