Home / জাতীয় / বাংলাদেশে তীব্র শীতের প্রকোপ: যেসব বিষয়ে সতর্কতা দরকার

বাংলাদেশে তীব্র শীতের প্রকোপ: যেসব বিষয়ে সতর্কতা দরকার

বাংলাদেশে শীতের তীব্রতা বাড়ছে। সেই সঙ্গে বাড়ছে ঠাণ্ডাজনিত অসুখ-বিসুখ। বৃদ্ধ ও শিশুরা বেশী আক্রান্ত হচ্ছে। সরকারের স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে জনগণকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে পরামর্শ দেয়া হচ্ছে।
অবহাওয়া অধিদপ্তর আজ (রোববার) সকালে জানিয়েছে, উত্তরের রাজশাহী, পাবনা, দিনাজপুর ও কুষ্টিয়া অঞ্চলের উপর দিয়ে তীব্র শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। শ্রীমঙ্গল ও সীতাকুন্ড অঞ্চলসহ ঢাকা, ময়মনসিংহ ও বরিশাল বিভাগের উপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি ধরনের শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে।
আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার জন্য আবহাওয়ার এক পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, মধ্যরাত থেকে সকাল পর্যন্ত সারাদেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে এবং তা কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত বিরাজ করবে।

আজ দেশে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে ৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সেখানে শীতের প্রকোপ আর কনকনে বাতাসে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। কর্মজীবী ও খেটে খাওয়া নিম্ন আয়ের মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। লোকজন জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে খুব একটা বের হচ্ছেন না। ঘন কুয়াশার মধ্যে মহাসড়কগুলোতে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করছে। রাজধানী ঢাকায়ও তাপমাত্রা কমেছে। আজ সকাল ৬টায় রাজধানীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে।

এদিকে, শীতজনিত রোগ-ব্যাধির কারণে হাসপাতালে প্রতিদিনই বাড়ছে রোগীর সংখ্যা। নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ দিলীপ কুমার রায় জানিয়েছেন, শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বাড়ার কারণে প্রতিদিন শিশু ওয়ার্ডে গড়ে ৫০ জন করে রোগী ভর্তি হচ্ছে।ডায়রিয়া ও নিউমোনিয়াসহ শীতজনিত রোগে আক্রান্ত ২৫ ব্যক্তি গতকাল সৈয়দপুর ১০০ শয্যার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, গতকাল ২৪ ঘণ্টায় নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে ৩৫ শিশু, ডায়রিয়ায় ২০ জন এবং অন্যান্য রোগের জন্য ৪৩ জন ভর্তি হয়েছে।

শ্রীমঙ্গল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গত তিন-চার দিন কোল্ড ডায়রিয়া, নিউমোনিয়াসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে হাসপাতালে ২০টি শিশু ভর্তি হয়েছে। এছাড়া ৬০টি শিশু চিকিৎসা নিয়েছে। ডায়রিয়া, হাঁপানি, সিওপিডিসহ ঠাণ্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত হয়ে ১০-১২ জন প্রাপ্তবয়স্ক রোগীও হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ২০-৩০ জন।

এ প্রসঙ্গে ঢাকা মেডিকেল কলেজের সহকারি রেজিষ্ট্রারার ডাক্তার মাহবুব আলম রেডিও তেহরানকে বলেন, ঠাণ্ডাজনিত অসুখ-বিসুখ থেকে রক্ষা পেতে গরম পোশাক ব্যবহার করতে হবে, প্রচুর পরিমাণে তরল খাবারসহ শরীরকে উষ্ণতা দেয় এমন খাবার বেশী খেতে হবে। বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের গোসল এবং খাওয়ার জন্য গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি ঠাণ্ডা ও ধূলাবালি এড়িয়ে চলতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে জনগণকে ঠাণ্ডাজনিত রোগ-ব্যাধি থেকে বিশেষ করে শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট বা ডায়রিয়া দেখা গেলে দ্রুত ডাক্তারের কাছে নিতে হবে।

Check Also

শাহসুফী আল্লামা মুহাম্মদ মাহমুদুর রহমান পীর সাহেব মাঃআঃ এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

মুহাম্মদ মাহমুদুর রহমান ১৯৮১ ইং সনের ১লা মার্চ কুমিল্লা জেলা মুরাদনগর থানার সোনাকান্দা গ্রামের সম্ভান্ত ...