Home / জাতীয় / পোশাক শ্রমিকরা বেতন-বোনাসের দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা

পোশাক শ্রমিকরা বেতন-বোনাসের দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা

৬ আগস্ট (তিতাস নিউজ): বেতন-বোনাসের দাবিতে আগামীকাল বৃহস্পতিবার ও পরদিন শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তোবা গ্রুপের অনশনরত শ্রমিকরা। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবারের মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী ৯ আগস্ট সারাদেশের সকল গার্মেন্টস কারখানায় ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন তারা।

বুধবার বিকেলে এক বিবৃতিতে এ কর্মসূচির ঘোষণা দেয়া হয়। বিকেল ৫টায় সংবাদ সম্মেলনের কথা থাকলেও সাংবাদিকদের ভেতরে ঢুকতে না দেয়ায় তোবা গ্রুপ শ্রমিক সংগ্রাম কমিটির সমন্বয়ক মোশরেফা মিশু বাড্ডার হোসেন মার্কেটের সপ্তম তলা তোবার কারখানা থেকে লিখিত বক্তব্য নিচে ফেলে দিয়ে এ কর্মসূচির কথা জানান। সেই সঙ্গে তিনি মাইকেও কমসূচির ঘোষণা দেন।

এর আগে তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের মধ্যে অল্প কিছু শ্রমিক আজ কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ’র কার্যালয় থেকে দুই মাসের বকেয়া বেতন গ্রহণ করেছেন।

তোবা গ্রুপের ৮টি কারখানার ১ হাজার ৪৫৮ জন শ্রমিকের মধ্যে ৩২৩ জনকে বেতন দিয়েছে পোশাক শিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএ। আগামীকাল বৃহস্পতিবারও সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত বেতন দেওয়া হবে। বেতন নেয়া অধিকাংশ ছিলেন- কারখানার নিরাপত্তা কর্মী ও অন্যান্য কর্মচারীরা।

বিজিএমইএ সভাপতি মো. আতিকুল ইসলাম জানান, কেউ শ্রমিকদের বেতন নিয়ে রাজনীতি করবেন না। শ্রমিকদের আনতে বাড্ডায় তোবা কারখানার সামনে ৫টি বাস রাখা হয়েছে। আমরা আশা করবো শ্রমিকরা বেতন সংগ্রহ করবেন। আজ সারাদিন বেতন দেয়ার জন্য কাউন্টারগুলো উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আজকে কেউ বেতন না নিলে এর দায়ভার বিজিএমইএ নেবে না। পরবর্তীতে মালিকপক্ষের কাছ থেকে বেতন নিতে হবে।

এদিকে, তোবা গ্রুপের শ্রমিকদের সঙ্গে অনশনে বহিরাগত লোকজন আছে এমন অজুহাতে দুপুর ১২টার পর পুলিশ কারখানার ভেতরে প্রবেশ করে এবং  শ্রমিক নেতা ও চিকিৎসাকর্মীসহ বেশ কিছু শ্রমিককে সেখান থেকে বের করে দেয়।

এ সময় অনশনরত শ্রমিকদের সমর্থনে গণতান্ত্রিক বাম মোর্চার নেতাকর্মীরা হোসেন মার্কেটের সামনে সংহতি সমাবেশ করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয়।  পুলিশ তাদের মাইক ও ব্যানার কেড়ে নেয়। একপর্যায়ে লাঠিচার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় পুলিশ। এতে কয়েকজন আহত হন।

এ ঘটনায় আহত শ্রমিক নেতা সুমন মল্লিক রেডিও তেহরানকে বলেন, পুলিশি হামলায় অনেক নেতা-কর্মী অহত হলেও শ্রমিকরা তাদের  আন্দোলনে দৃঢ় রয়েছেন। মালিকদের দালালরা মাত্র ১৫ জন শ্রমিককে  সেখান থেকে জোরপূর্বক বিজিএমইএ ভবনে আংশিক পাওনা পরিশোধের জন্য নিতে পেরেছে।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় মুক্তি কাউন্সিলের সম্পাদক ডাক্তার ফায়জুল হাকিম বলেন,তোবা গ্রুপের মালিক দেলোয়ার হোসেনকে জেল থেকে মুক্ত করতেই পাওনা মজুরি বকেয়া রেখে শ্রমিকদের জিম্মি করা হয়েছে।    সরকার ও বিজিএমইএ উভয়েই এ ষড়যন্ত্রের জন্য দায়ী।

উল্লেখ্য, তিনমাসের বেতন ও বোনাসের দাবিতে ঈদের আগের দিন থেকে তোবা গ্রুপের দেড় হাজার শ্রমিক অনশন শুরু করে। ঈদের পর সরকার  ও  বিজিএমইএ মিটিং করে দুই মাসের বেতন পরিশোধের সিদ্ধান্ত নেয়। তাও আবার কাওরানবাজারে বিজিএমইএ ভবনে পরিশোধের ব্যবস্থা করে।

আন্দোলনরত শ্রমিকরদের দাবি হচ্ছে,পুরো পাওনা একসাথে বাড্ডার  কারখানা ভবন থেকেই পরিশোধ করতে হবে।

 

Check Also

কুমিল্লায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট ● কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমান চিকিৎসাসেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবা’হিনী, কুমিল্লা এরিয়া। ...