Home / জাতীয় / দেখে আসুন মজিতপুর জমিদার বাড়ী
ছবিতে দৈনিক শিক্ষা বার্তা ডট কমের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ শাহজামান শুভ

দেখে আসুন মজিতপুর জমিদার বাড়ী

ইংরেজ আমলের প্রথম দিকে লর্ড কর্ণ্ওয়ালিস জায়গীরদারী প্রথাকে বিলুপ্ত করে জমিদারী প্রথা প্রচলন করে কিন্তু তৎকালিন মুসলমানদের প্রতি বিদ্বেষভাব থাকার কারনে ইংরেজরা হিন্দু বুদ্ধিমান ও তাবেদার শ্রেনীর লোকদেরকে জমিদারী প্রদান করেন। বৃহত্তর দাউদকান্দি মুলতঃ মুসলিম অধ্যুষিত এলাকা বিধায় কোন প্রভাবশালী জমিদার ছিল না। সোনার গাঁয়ের হিন্দু জমিদারদের অধিনেই পরিচালিত হতো দাইদকান্দি পরগণা।তবে তিতাসের মজিদপুরে হিন্দু জমিদার বাড়ির নিদর্শন এখন ও বিদ্যমান রয়েছে। মোট ১৭টি অট্টালিকার মধ্যে তিনটি ভেঙ্গে ফেলা হয়েছে অবশিষ্টগুলো ভগ্ন প্রায়,কারুকার্য খচিত ইমারতগুলো এখন জরাজীর্ন অবস্থায় আছে। জমিদার বাড়ীর আশে-পাশে ১টি দীঘি এবং ছোট-বড় মিলে ২০টি পুকুর রয়েছে। যদিও দীর্ঘদিন যাবৎই জমিদারদের প্রাসাদগম অট্টালিকা সমুহ মুসলমানদের দখলে রয়েছে (খরিদ সূত্রে)বর্তমানে তাদের কোন উত্তরাধিকারীর সন্ধান পাওয়া যায়নি। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই হিন্দু জমিদাররা তাদের সব কিছু পরিহার করে ভারতে চলে যান। বর্তমানে সবগুলো ভবনই জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। তবে ভবনগুলো খুবই কারুকার্য খচিত এবং বিভিন্ন খুপরির অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যায়।ভবনগুলোরমাঝে সুড়ঙ্গ পথও রয়েছে।
খোজ নিয়ে জানা যায়, জমিদারী শাসনের শুরুর দিকে মজিতপুর জমিদার বাড়ীর প্রথম পুরুষ শ্রী রামলোচন রায় মজিতপুরে এসে বসতি স্থাপন করেন। মেঘনা, হোমনা, তিতাস ও মুরাদনগর পর্যন্ত তাদের জমিদারী ব্যপৃত ছিল। শ্রী রামলোচন রায়ের তিন পুত্র ছিল,তাঁরা হলেন শ্রী কালীচরণ রায়, ব্রজেন্দ্র কুমার রায় এবং শিবচরণ রায়। জমিদারী আইন বিলুপ্ত হওয়ার পুর্ব পর্যন্ত বংশ পরস্পরায় তাদের জমিদারী চলে আসছিল, শ্রী কালীচরণের ছিল পাঁচ ছেলে যথাক্রমে পিয়ারী মোহন রায়, বিহারী মোহন রায়, শশী মোহন রায়, শরৎ চন্দ্র রায় এবং মোহিনী মোহন রায়। ব্রজেন্দ্র কুমার রায়ের তিন ছেলেরা হলেন ক্ষিতিষ চন্দ্র রায় যিনি মজিতপুর ইউনিয়নের প্রথম প্রেসিডেন্ট ছিলেন। অন্যরা হলেন গিরিশ চন্দ্র রায় ও শিরিষ চন্দ্র রায়। শীব চরণ রায়ের দুই ছেলে হলেন শ্রী হরলাল চন্দ্র রায় ও যোগেশ চন্দ্র রায়। শিরিষ চন্দ্র রায় গর্ভবতী স্ত্রীকে হত্যা করে উম্মাদ হয়ে যায় বলে তাকে একটি অন্ধকার প্রকোষ্টে শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হত। এ অবস্থায়ই তার মৃত্যু হয়। ক্ষিতিষ চন্দ্র রায়ের দুই ছেলে শ্রী নারায়ন চন্দ্র রায় এবং শ্রী দুর্গা চরণ রায়। শ্রী দুর্গা চরণ রায়ের তিন পুত্রের মধ্যে ক্ষেত্র মোহন রায় বর্তমান তিতাস উপজেলার প্রথম এন্ট্রাস পাস, প্রথম গ্রাজুয়েট এবং প্রথম আইনজীবি। অপর ছেলে কুঞ্জ মোহন রায় মজিতপুর ইউনিয়নের প্রেসিডেন্ট হয়েছিলেন। শরৎ চন্দ্র রায়ের পুত্র উপেন্দ্র চন্দ্র রায় তিতাস উপজেলার প্রথম গ্রাজুয়েট ডাক্তার।
রামলোচন ছাড়াও তাদের বংশের যারা জমিদারী করেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন রাম সুন্দর রায়। এদের মধ্যে রামগতি রায়ের পুত্র নলিনী ভূষন রায় মজিতপুর ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। স্থানীয় লোকজনের সাথে আলাপ করে জমিদার কর্তৃক মুসলমানদের উপর নানাহ অত্যাচার ও জোর জুলুমের কথা জানা যায়। খাজনা, লগ্নি ও মহাজনী সুদের টাকা সময় মত পরিশোধ করথে না পারলে বন্ধকী সম্পত্তি জবর দখল করে নিত এবং নির্যাতন চালাত। মুসলমানরা তাদের বাড়ির নিকট দিয়ে জুতা পায়ে এবংছাতা মাথায় দিয়ে যেতে পারত না। মৌটুপী নিবাসী অত্যান্ত তেজস্বী নির্লোভ চরিত্রের ব্যক্তিত্ব হাবিবুর রহমান মাষ্টার ইউনিয়ন বোর্ডের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হলে তাদের অত্যাচার থেকে মুসলমানরা রক্ষা পায় এবং হিন্দু জমিদাররা এলাকা ছাড়তে বাধ্য হয়।

মোহাম্মদ শাহজাহান
সিনিয়র সম্পাদক
তিতাস নিউজ ডট কম

সিনিয়র শিক্ষক
জগতপুর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয়
তিতাস, কুমিল্লা।

Check Also

কুমিল্লায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট ● কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমান চিকিৎসাসেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবা’হিনী, কুমিল্লা এরিয়া। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *