Home / দাউদকান্দির খবর / গৌরীপুর ইউনিয়ন / দাউদকান্দিতে ভুল চিকিৎসায় মা ও শিশুর মৃত্যু শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

দাউদকান্দিতে ভুল চিকিৎসায় মা ও শিশুর মৃত্যু শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

আলমগীর হোসেন, দাউদকান্দি প্রতিনিধি:
দাউদকান্দির গৌরীপুরে খিদমা ডিজিটাল হসপিটালে ভুল চিকিৎসায় মা ও নবজাতকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। ভুল চিকিৎসার অভিযোগে বিক্ষুদ্ধ রোগীর স্বজনরা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ডাক্তারের শাস্তি দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে। ঘটনাটি ঘটেছে গত বুধবার রাতে উপজেলার গৌরীপুর বাজারে অবস্থিত খিদমা হসপিটালে। গত বৃহস্পতিবার গৌরীপুর ফাঁড়ি পুলিশ লাশ ২টি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। নিহত রোগী গৃহবধূ শাহিনা আক্তার (৩২) দাউদকান্দি পৌরসভার দক্ষিণ সতানন্দী গ্রামের প্রবাসী সেলিম মিয়ার স্ত্রী এবং তার নবজাতক কণ্যা শিশু। নিহতের স্বজনরা জানায়, বুধবার রাতে দাউদকান্দি পৌরসভার দক্ষিণ সতানন্দী গ্রামের প্রবাসী সেলিম মিয়ার স্ত্রী শাহিনা আক্তারকে সিজিরিয়ানের মাধ্যমে বাচ্চা ডেলিভারির জন্য গৌরীপুর বাজারের খিদমা হাসপাতালে নিয়ে আসে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১২ হাজার টাকার সিজিরিয়ানের বাচ্চা ডেলিভারি করার জন্য চুক্তিদ্ধ করেন। রাতে ডাঃ মোঃ সরফরাজ হোসেন খান রোগীকে অজ্ঞান করার পর ডাঃ শেখ হোসনেয়ারা ও নার্স কামরুল নাহার সিজারিয়ানের মাধ্যমে বাচ্চা ডেলিভারি করান। সিজিরিয়ানের সময় নবজাতকের মৃত্যু হয় এবং মহিলার রক্তক্ষরণ বন্ধ না হওয়ায় দুইজনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়। পথিমধ্যেই গৃহবধূ শাহিনা আক্তার মারা যায়। স্বজনরা তাদের মা ও মেয়ের সংবাদ পেয়ে খিদমা হাসপাতাল ভাংচুরের চেষ্ঠা করলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লায় পাঠায়। নিহতের মা ফয়জুন্নেছা বলেন, আমরা হাসপাতালের মালিককে বলেছিলাম ভাল ডাক্তার দিয়ে আমার মেয়ের ডেলিভারি করাতে। একজন নার্স আর হাতুরী ডাক্তার শেখ হোসনেয়ারা সিজার করে আমার মেয়ে ও নাতিনকে মেরে ফেলেছে। হাসপাতালের মালিক দেওয়ান মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, রোগী আমাদের এখানে মারা যায়নি। রোগীর অবস্থা খারাপ দেখে ঢাকায় প্রেরণ করি। যদিও সিজারিয়ান আমাদের এখানেই হয়েছে কিন্তু ডেলিভারী হয়েছে মৃত বাচ্চা। এব্যাপারে আমাদের কোন দায়-দায়িত্ব নেই। গৌরীপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ তপন কুমার বাকচী বলেন, রাতে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং নিহত স্বজনদের শান্ত করার চেষ্ঠা করি। লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা প্রেরণ করেছি। ময়না তদন্তের পর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এখনও কোন মামলা দায়ের করা হয়নি। এ ব্যাপারে দাউদকান্দি উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাঃ মোঃ শাহ আলম মোল্লা বলেন, খিদমা হসপিটালের সরকারী কোন অনুমোদন নাই। এটি লাইসেন্স বিহীন ও সম্পূর্ণ অবৈধ। রোগীর মৃত্যুর ঘটনা সর্ম্পকে আমরা অবগত রয়েছি। খিঘ্রই হাসপাতালটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। উল্লেখ্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কোন ভূমিকা না থাকায় গৌরীপুরে ব্যাঙ্গের ছাতার মত গড়ে উঠেছে অসংখ্য কিনিক, ডায়াগনষ্টিক ও হাসপাতাল সেন্টার।

Check Also

কুমিল্লার গৌরীপুর “রংধনু হসপিটালে” সিজারিয়ান অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু

আজ ২৭ আগষ্ট ১৮ ইং সোমবার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর “রংধনু হসপিটাল” এ সিজারিয়ান অপারেশনে এক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *