Home / দাউদকান্দির খবর / দাউদকান্দিতে কিশোরীর আত্মহত্যা অতঃপর অপমৃত্যুর মামলা

দাউদকান্দিতে কিশোরীর আত্মহত্যা অতঃপর অপমৃত্যুর মামলা

নিজস্ব প্রতিনিধি॥
দাউদকান্দি উপজেলার বারপাড়া ইউনিয়নের কানড়া দুর্গাপুর গ্রামে ৭ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে এক কিশোরী আত্মহত্যা করেছে বলে জানা গেছে।পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী মোসাঃ বৃষ্টি আক্তার (১৬) গতকাল ঈদুল ফিতরের দিন সকাল ১০টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের পার্শ্বে এলাকার কয়েকজন উদিয়মান তরুণদের সঙ্গে তাকে দেখার পর তার বাবা মোঃ শাহ্জালাল মিয়া বাড়িতে নিয়ে আসেন। তিনি আরো জানান, আজ ৮ জুলাই শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে দেখেন তার মেয়ে ঘরের আঁড়ার সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে। এব্যাপারে তিনি থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।’
এব্যাপারে দাউদকান্দি থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আবু ছালাম মিয়া বলেন, ‘থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের পর আসল ঘটনা জানা যাবে।’
বারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য ও ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক মেম্বার মোঃ মনিরুল ইসলাম (৫০) বলেন, ‘কানড়া গ্রামের সৌদি প্রবাসী নসীব উদ্দিনের ছেলে মোঃ জুয়েল (১৯)-এর সঙ্গে মেয়েটির প্রেম ছিল। গতকাল সকালে ছেলেটি মেয়েটিকে ঘুরতে নিয়ে যায়। সারাদিন ঘোরাঘুরির পর ছেলে এবং তার কয়েকজন বন্ধু মিলে মেয়েটিকে বাড়িতে চলে যেতে বলে। কিন্তু মেয়েটি ছেলের বাড়িতে যাওয়ার কথা বললে তাদের সঙ্গে মেয়েটির বাকবিত-া শুরু হয়। এমতাবস্থায় এলাকার মুরব্বিরা দেখে মেয়ের বাবাকে খবর দেয়। পরে মেয়ের বাবা একরকম জোর করেই তাকে বাড়িতে নিয়ে যায়। সকাল হওয়ার পর আমরা জানতে পারি, মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে।’
এলাকার একজন সচেতন নাগরিক মোঃ বাদল বলেন,‘ দীর্ঘদিন যাবৎ কানড়া গ্রামের জুয়েল, পিতা: নসীব উদ্দীন ও একই গ্রামের তার সাঙ্গপাঙ্গ মোঃ মুছা (২২), পিতা: কবির হোসেন, আরমান হোসেন (২০), পিতাঃ আব্দুল বাতেন এবং রিয়াদ হোসেনসহ আরো অনেকেই এলাকায় স্কুল-কলেজ পড়–য়া মেয়েদের ইভটিজিং করার পাশাপাশি প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে অনৈতিক কর্মকা- চালিয়ে আসছে। এলাকাবাসীর কোন কথাই তারা কর্ণপাত করে না। এর জের ধরে আজকের এই ঘটনা।’
তিনি এসব কথা বলার সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত এলাকার জনসাধারণ এবং স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মোঃ আলাউদ্দিন মিয়া, মোসাঃ লাইলি আক্তার জোর গলায় তার বক্তব্যকে সমর্থন করেন। তারা বজ্রকন্ঠে সকল ইভটিজার ও আজকের হত্যাকা-ের সঙ্গে জড়িতদের যথাযথ বিচার দাবি করে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন মুরব্বি ক্ষোভের সঙ্গে জানান,‘ জুয়েল মিয়েটিকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার পর বিয়ের প্রলভন দেখিয়ে মেয়েটিকে ভোগ করে। যার ফলে মেয়েটি নিজের বাড়িতে না ফিরে ছেলের বাড়িতে যাওয়ার জন্য পীড়াপীড়ি করে।

Check Also

কুমিল্লার গৌরীপুর “রংধনু হসপিটালে” সিজারিয়ান অপারেশনে প্রসূতির মৃত্যু

আজ ২৭ আগষ্ট ১৮ ইং সোমবার দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর “রংধনু হসপিটাল” এ সিজারিয়ান অপারেশনে এক ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *