Home / তিতাসের খবর / তিতাসে নিখোঁজ হওয়া যুবকের লাশ ২১ দিন পর ৪ ফুট মাটির নীচ থেকে উদ্ধার ॥ গ্রেফতার ৪

তিতাসে নিখোঁজ হওয়া যুবকের লাশ ২১ দিন পর ৪ ফুট মাটির নীচ থেকে উদ্ধার ॥ গ্রেফতার ৪

নিজস্ব প্রতিনিধি॥

কুমিল্লার তিতাস উপজেলায় নিখোঁজ হওয়া যুবকের লাশ ২১ দিন পর ফসলী জমির ৪ ফুট মাটির নীচ থেকে উদ্ধার করে স্থানীয় প্রশাসন। ৪ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার উপজেলার গৌরীপুর-হোমনা সড়কের পশ্চিম পাশে শিবপুর এলাকার ফসলী জমি থেকে তিতাস থানা পুলিশ আতাউর রহমান সেলিম (২৬)-এর লাশ উদ্ধার করে। নিহত যুবক উপজেলার দড়িকান্দি গ্রামের আঃ লতিফ মোল্লার ছেলে। উক্ত হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৪ জনকে গ্রেফতার করেছে।

তিতাস থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তারেক আব্দুল হান্নান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ‘ নভেম্বরের ১৪ তারিখে মজিদপুর গ্রামের জাহাঙ্গীর ভূঁইয়ার বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয় আতাউর। নিহতের বড় ভাই জিয়াউর রহমান বাদী হয়ে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করলে তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে সিএনজি চালক একই উপজেলার দড়িকান্দি গ্রামের বাদশা মিয়ার ছেলে আনোয়ার হোসেন (২৫), খবির মিয়ার পুত্র সুমন আহম্মেদ (২৪), সফিকুল ইসলামের ছেলে আমজারুল ইসলাম (২৫) ও একই উপজেলার শিবপুর গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে সালাউদ্দিন (২৬) কে গ্রেফতার করে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদকালে তারা স্বীকার করে আতাউরকে হত্যা করে লাশ মাটির নীচে চাপা দিয়ে রেখেছে’। বৃহস্পতিবার দুপুরে আটককৃত আনোয়ার হোসেনকে নিয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে এবং তার তথ্যমতে ফসলী জমির মাটি কেটে ৪ ফুট মাটির নীচ থেকে আতাউরের লাশ উদ্ধার করে। এদিকে নিহতের বড় ভাই জিয়াউর রহমান জানান, ‘আতাউর নিখোঁজের আগে সুমন একটি মেয়েকে তার বাড়িতে ধর্মবোন হিসেবে রাখে এবং অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়। তা আতাউর দেখে ফেলে এবং প্রতিবাদ করায় সুমন তার উপর ক্ষিপ্ত হয়। অপরদিকে আসামী সালাউদ্দিন দার হিসেবে আতাউর রহমানের কাছ থেকে ২ লাখ টাকা নেয়। উক্ত টাকা ফেরত চাওয়াতে সালাউদ্দিনও তার প্রতি ক্ষিপ্ত হয়ে পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে বলে নিহতের একাধিক আত্মীয়-স্বজন অভিযোগ করেন। এ ব্যাপারে তিতাস থানায় অপহরণ ও হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। লাশ উদ্ধার করে কুমিল্লা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। আসামীদের তিতাস থানায় আটক রাখা হয়েছে। এলাকাবাসী ও একাধিক সূত্র জানায়, উক্ত চক্রটি দীর্ঘদিন যাবৎ এলাকায় মাদক ও নারী ব্যবসা করে আসছে। মূলত উক্ত কাজের প্রতিবাদ করায় আতাউরকে হত্যা করে লাশ গুম করা হয়। তবে এই চক্রের সাথে রাজনীতি ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত রয়েছে বলে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। স্থানীয় রাজনীতিবিদ ও প্রভাবশালীর অনেকে আসামী গ্রেফতারের পর থেকে থানায় ভিড় করতে থাকে এবং বিভিন্ন কৌশলে অভিযুক্তদের ছাড়িয়ে নিতে চেষ্টা করে। কুমিল্লার দেবিদ্বারের আলোচিত শাহিনা বেগমের হত্যা মামলার রহস্য উৎঘাটনের নায়ক এবং দুই’শ ফুট পাইপের নীচ থেকে লাশ উদ্ধার করা তৎকালীন দেবিদ্বার থানার ওসি বর্তমানে তিতাসে কর্মরত তাকের আঃ হান্নান কারো কথা কর্ণপাত না করে অভিযানে নামে এবং সফলতার সাথে লাশ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

 

ছবির ক্যাপশন : ছবি একই ফাইলে আলাদা পাঠানো হয়েছে।

কুমিল্লার তিতাসে ৪ ফুট মাটির নীচ থেকে লাশ উদ্ধার করা হচ্ছে এবং নিহতের বড় বোন ও স্ত্রীর আহাজারী (ইনসেটে নিহত আতাউর রহমান সেলিম।

 

মো. আলী আশরাফ খান

গৌরীপুর, দাউদকান্দি, কুমিল্লা।

তারিখ:০৪/০১২/১৪

Check Also

আজ তিতাস উপজেলায় ৪৮ তম জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসার গ্রীষ্মকালীন খেলাধূলার ফাইনাল প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন – হোমনা-তিতাসের গণ মানুষের নেতা ও মাননীয় জাতীয় সংসদ ...