Home / তিতাসের খবর / জগতপুর ইউনিয়ন সংবাদ / তিতাসে আওয়ামীলীগ নেতা মনিরের জানাজা জগতপুর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত

তিতাসে আওয়ামীলীগ নেতা মনিরের জানাজা জগতপুর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে অনুষ্ঠিত

নাজমুল করিম ফারুক (২৫/০৩/২০১৮):
কুমিল্লার তিতাসে রাতের গভীরে এলোপাতারী গুলি করে আওয়ামীলীগ নেতাকে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। শনিবার রাত ৯টায় উপজেলার ভাটিপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় এ ঘটনা ঘটে। নিহত হাজী মোহাম্মদ মনির হোসেন (৫০) ভাটিপাড়া গ্রামের হাজী আব্দুল মজিদের ছেলে। ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন আহতাবস্থায় তাকে উদ্ধার করে প্রথমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করালে কর্তৃব্যরত ডাক্তার জরুরীভাবে ঢাকা প্রেরণ করে। ঢাকা যাওয়ার পথে রাত ১০টায় তিনি মারা যান। রাতেই পুলিশ লাশ হেফাজতে নিয়ে রবিবার সকালে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মর্গে প্রেরণ করে। একই দিন ৩টায় জগতপুর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জানাজা শেষে নিজ গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। উক্ত ঘটনার পর ভাটিপাড়া গ্রামটি পুরুষ শূন্য হয়ে গেছে এবং থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যার পর ভাটিপাড়া ও তার আশেপাশের গ্রামগুলোতে লোডশেডিং চলছিল। লোডশেডিংয়ের সময় মনির হোসের তার বাড়ির সামনের ভাটিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় বসে সময় কাটাচ্ছিলেন। রাত প্রায় ৯টায় কে বা কারা রাতের অন্ধকারে তাকে এলোপাতারী গুলি করে পালিয়ে যায়। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় লোকজন আহতাবস্থায় মনিরকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। অবস্থার অবনতি দেখে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রেরণ করা হয়। ঢাকা যাওয়ার পথে গাড়িতে মনির হোসেন মারা যায়। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে তিতাস থানা পুলিশ রাতেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং লাশ হেফাজতে নিয়ে রবিবার কুমিল্লা মর্গে প্রেরণ করেন। হাজী মনির হোসেন দীর্ঘদিন যাবৎ আওয়ামীলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত। সাবেক জগতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মনির হোসেন বর্তমানে উপজেলা কমিটির সদস্য এবং বিলুপ্ত হওয়া একাংশ কমিটির নেতৃত্বকারী পারভেজ হোসেন সরকার গ্রুপের সহ-সভাপতি ছিলেন। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি এলাকায় প্রভাবশালী হিসেবে শালিস-বৈঠক পরিচালনা করাসহ সামাজিক অনেক কর্মকান্ডে জড়িত। একাধিক হত্যা মামলার আসামী মনির হোসেনের বর্তমানে স্ত্রী, ২ ছেলে ও ২ মেয়ে রয়েছে। এদিক রবিবার ময়নাতদন্ত শেষে জগতপুর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে নিহতের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী, সাধারণ সম্পাদক মোঃ মহসিন ভূঁইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান শাহিনুল ইসলাম সোহেল শিকদার, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর, উপজেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সাইফুল আলম মুরাদ, জগতপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মজিবুর রহমান, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুর রহমানসহ আওয়ামীলীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিহত মনির হোসেনের বড় ছেলে জুনিয়র এডভোকেট মো. মুক্তার হোসেন নাঈম জানান, যারা আমার বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে আমি তাদের আটকসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
জগতপুর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মোজাম্মেল হক টিটু জানান, মনির হোসেন একজন নিষ্ঠাবান আওয়ামীলীগের সক্রিয় নেতা ছিলেন। আমি এ হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং পাশাপাশি প্রশাসনের কাছে জোর দাবি রাখছি, যারা এই হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তাদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হউক।

উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বীরমুক্তিযোদ্ধা শওকত আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. মহসিন ভূঁইয়া জানান, সভ্য সমাজে এঘটনা মেনে নেওয়া যায় না। সে ছিল আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ নেতা। উপজেলা আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে এ হত্যাকান্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি এবং কারা এ হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত তাদের বের করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।

তিতাস থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ নুরুল আলম টিপু জানান, হত্যাকান্ডের পর থেকে পুলিশ কাজ করছে। কোন অভিযোগ জমা পড়েনি, তবে তার বড় ছেলের সাথে কথা হয়েছে। শীঘ্রই অভিযোগপত্র জমা দেবে। কেন বা কারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তার উৎঘাটনে পুলিশ সক্রিয়ভাবে কাজ করছে। নিহতের গায়ে ৬/৭টি গুলির চিহ্ন রয়েছে।

Check Also

কুমিল্লায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট ● কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমান চিকিৎসাসেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবা’হিনী, কুমিল্লা এরিয়া। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *