Home / রাজনীতি / তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি থেকে সরে এলেন খালেদা জিয়া

তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার দাবি থেকে সরে এলেন খালেদা জিয়া

২৬ জুলাই (তিতাস নিউজ): নির্বাচনকালীন নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থার দাবি থেকে সরে এলেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর পরিবর্তে তিনি নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দেয়ার দাবি জানিয়েছেন।  শনিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির নবনির্বাচিত নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগের অধীনে কখনো সুষ্ঠু নির্বাচন হতে পারে না। সর্বশেষ ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সেটা আবারও প্রমাণ হয়েছে। দেশে একটি অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য নিরপেক্ষ সরকারের দরকার। আমি বলব না তত্ত্বাবধায়ক, যে নামেই হোক না কেন, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে সে নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, সেখানে যাদেরকে জনগণ ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে তারাই দেশের দায়িত্ব নিয়ে দেশের জন্য কাজ করবে।’

খালেদা জিয়া বলেন, ‘আওয়ামী লীগ জানে ক্ষমতা চলে গেলে সহসাই আর আসতে পারবে না। সেজনই তারা জোর করে ক্ষমতা আঁকড়ে আছে। তবে জোর করে বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা যায় না। র‌্যাব-পুলিশ এ সরকারকে বেশিদিন ক্ষমতায় টিকিয়ে রাখতে পারবে না। ক্ষমতা থেকে নামলে তাদের পরিণতি হবে খারাপ। যদি তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হয়, তবে এখনই সময়। দেশের জনগণের কথা ভেবে সুষ্ঠু নির্বাচনের আয়োজন করার।‘

আওয়ামী লীগের ব্যাপারে খালেদা জিয়া বলেন, ‘তাঁরা কেবল বিএনপি, ২০ দলের ক্ষতি নয়, সারা দেশের ক্ষতি করছে। এই যে আমরা মুক্তিযুদ্ধ করে একটি দেশ স্বাধীন করলাম, এ দেশের ক্ষতি করছে। বিদেশিরা যখন কাগজে এগুলো পড়বে বলবে, বাংলাদেশের লোক কি এ কাজগুলোই করে? খালি খুন করে, জখম করে ডাকাতি করে বা ইয়াবার ব্যবসা করে? এগুলো করায় তো তারা। এই যে নাটকগুলো তারা করছে, এগুলো করে বাংলাদেশের ইমেজটা নষ্ট করছে।’

খালেদা জিয়া অভিযোগ করে বলেন, ‘দেশে গণতন্ত্র নেই, আইনের শাসন নেই। এজন্য দেশে অরাজক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। মানুষ নিরাপত্তা চায়। রাজনৈতিক অধিকার চায়। কিন্তু বর্তমানে সবধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ। মানুষ রাজপথে সভা-সমাবেশ এমনকি মানববন্ধন পর্যন্ত করতে পারছে না। এ অবস্থায় দেশ চলতে পারে না।‘

তিনি বলেন, ‘দেশের সবকিছুই আওয়ামী লীগের নিয়ন্ত্রণে। তারা শিশু ও নারীদের ওপর পর্যন্ত নির্যাতন করছে। এমনকি প্রশাসনের লোকদেরও মারধর করছে। আসলে তাদের চরিত্র নষ্ট হয়ে গেছে। সেজন্যই জনগণ তাদের কাছ থেকে মুক্তি চায়।‘

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘আওয়ামী লীগ আজীবন ক্ষমতায় থাকার জন্য বিএনপিসহ সব দলকে ধ্বংস করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিএনপিকে শেষ করা যাবে না। বিএনপির ‘রুট’ দেশের গভীরে, মানুষের মনে। যত দিন এ ‘রুট’ থাকবে তত দিন বিএনপি টিকে থাকবে।’

উপস্থিত নির্বাচিত আইনজীবীদের উদ্দেশে খালেদা জিয়া বলেন, ‘আপনারা তো নির্বাচিত। এরা (বর্তমান সরকার) অনির্বাচিত। এ অনির্বাচিত সরকার দেশটাকে শেষ করে দিচ্ছে। এরা ক্ষমতায় থাকলে দেশের ভালো হবে না।’  এ সময় তিনি আগামী বার কাউন্সিলের নির্বাচনে জাতীয়তাবাদী পুরো প্যানেলকে নির্বাচিত করার জন্য আইনজীবীদের আহ্বান জানান।

এর আগে রাত সোয়া ৮টায় বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে এ মতবিনিময় সভা শুরু হয়। বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সুপ্রিম কোর্ট বারের সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনের সঞ্চালনায় মতবিনিময় অনুষ্ঠানে বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি খন্দকার মাহবুব হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক ও সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আবদুল মান্নান বক্তব্য দেন। মতবিনিময় সভায় সাবেক ভূমি উপমন্ত্রী উকিল আবদুস সাত্তার, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আল রশিদ, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট এ জে মোহাম্মদ আলী, খোরশেদ আলমসহ অর্ধশতাধিক আইনজীবী নেতা উপস্থিত ছিলেন।

Check Also

সংঘর্ষে যারা জড়িত ওরা আমাদের কেউ না

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি———————————————- মুরাদনগর ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ——————————————————————————————————————– ‘সংঘর্ষে যারা জড়িত ওরা আমাদের কেউ না’ ...