Home / সম্পাদকীয় / কবি ও কলামিষ্ট / চুমুকে চুমুকে শরীর ক্ষয়
মোহাম্মদ শাহজামান শুভ সহকারি শিক্ষক বাতাকান্দি উচ্চ বিদ্যালয় তিতাস, কুমিল্লা।

চুমুকে চুমুকে শরীর ক্ষয়

আমার বন্ধু দিপকের বাসায় গেলাম। বাসায় দিপকের স্ত্রীকে দেখলাম খুব ব্যস্ত আমাকে আপ্যায়ন করার জন্য। দিপককে ফরমায়েশ দিচ্ছে দোকান থেকে কোল্ড ড্রিংকস, চিপস, চানাচুর আর বিস্কুট আনতে। আমি লক্ষ্য করলাম, আমি তাদেরকে ব্যস্ততায় ফেলে দিলাম। দিপককে আমার জন্য কিছু আনতে হবে না, আমার জন্য প্রচন্ড গরম তাই পারলে লেবুর শরবত অথবা তেতুলের শরবত বানাইয়া আন। দিপকের স্ত্রী বলল, তাহলে দোকান থেকে ফ্রিজের জুস আন। আমি বললাম তা হবে না, শুধু আর্সেণিকমুক্ত টিঊবওয়েলের পানিই যথেস্ট।

আমার বন্ধুর স্ত্রীরির মত হাজারো উদহারণ আছে বাংলাদেশে মেহমানদের মেহমান্দারি করা হয় ক্ষতিকারক সিগারেট, জুস, কোমল পাণীয়, সুপারি-পান, দাবা বা হুক্কা(এখন হুক্কার প্রচলন নাই) ইত্যাদি দিয়ে।
আমাদের দেশে গরুর দুধ ষাট টাকা লিটার আর কোমল পানির দাম ৪৫টাকা থেকে ১২০টাকা (ক্ষেত্র বিশেষ কম বেশি হতে পারে)। ত্রিশ টাকায় পাওয়া যায় একটি ডাব। আমাদের দেশে যতগুলো বোতল বা টিন জাতের পানি আছে, তার থেকে কি দুধ বা ডাবের পানি পুষ্টিকর কম? আমি মালয়শিয়া ও সিংগাপুরে সিগারেটের প্যাকেটে দেখেছি প্যাকেটের সিংহভাগ অংশ ক্যান্সারের ক্ষতিকারক বিবৎস রঙ্গিন ছবি এবং সাবধানতার বাণী। আমাদের দেশেও সিগারেটের প্যাকেটে শর্তকতার বাণী আছে, “ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর”। অনেকটা জেনে শুনেই পান করছে ধূমপান। কিন্তু কোমল পানিতে কোন শর্তকতার বাণী অথবা প্রতিক্রিয়ার কথা লেখা নাই।
তথাকথিত কোমল ও কৃত্রিম পানীয় চুমুকে চুমুকে শরীর ক্ষয় করছে। এইসব কোমল পানীয় হচ্ছে স্লো পয়জন যা ধীরে ধীরে শরীর ও মনের মারাত্মক প্রভাব ফেলে যার কারনে মনোদৈহিক রোগসহ অন্যান্য রোগ যেমন দাঁতের ক্ষয়রোগ, হাড়ের ক্ষয়রোগ ইত্যাদি রোগ হয়। কোমল পানীর ক্যাফাইনের প্রভাবে অনিদ্রা, দ্রুত হৃদস্পন্দন, আতঙ্ক, উদ্বেগ, বিষন্নতা, উচ্চরক্তচাপ হতে পারে। সফট ড্রিংক্স দেহে অক্সিজেনের পরিমাণ কমিয়ে দেয় যা ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়। কোমল পানী বা সফট ড্রিংক্সে চিনির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় এসপার্টেম নামক কেমিক্যাল। যার প্রভাবে ব্রেইন টিউমার, বন্ধ্যাত্ব, ডায়াবেটিস, মৃগী, মানসিক ভারসাম্যহীনতাসহ দেহের ওপর এর ৯২ ধরনের ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
কোমল পানীয়ের ইথিলিন গ্লাইকোল আর্সেনিকের মতোই একটি বিষ। কিডনির ওপর এর প্রভাব অত্যন্ত মারাত্মক। এতে ব্যবহৃত স্যাকারিন মুত্রাশয়ে ক্যান্সার সৃষ্টি করে। এসিডিক হওয়ায় কোমল পানীয় পান করার পর পেট ব্যথা, বদ হজম, গ্যাস, টক ডেকুর ইত্যাদি হজমের সমস্যা দেখা দেয়।

তথ্যসূত্রঃ কোয়ান্টাম মেথড কোর্স এর “সুস্বাস্হ্য” পুস্তিকা।

Check Also

মুক্তির মিছিলে

মোহাম্মদ শাহজাহান: চির তারুন্যে সমুজ্জল, সায়্যিদউল্লাহ খাঁন, যার মধ্যে ছিল রূপ, রস, সৌরভের হাতছানি। যিনি ছিলেন ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *