Home / ইসলামী জীবন / কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বরের দুই দিনের আনুষ্ঠানিক করসেবা (মাটির ব্যাংক)

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বরের দুই দিনের আনুষ্ঠানিক করসেবা (মাটির ব্যাংক)

ঈদে মিলাদুন্নবী (স) করসেবা——————————————————— ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫

নবীজী (স)-এর অনুসৃত মেহনতের পথই সাফল্যের পথ

আমরা পরম করুণাময়ের কাছে গভীর শুকরিয়া আদায় করছি এজন্যে যে, এ বছর আমরা দুই বার ঈদে মিলাদুন্নবী (স)  পেয়েছি। রসুলুল্লাহ (স)-কে আল্লাহ রহমাতুল্লিল আলামীন তথা সমগ্র সৃষ্টির জন্যে রহমতস্বরূপ পাঠিয়েছেন। নবীজী (স)-কে আরো একটু গভীরভাবে জানার, তার জীবনাদর্শকে আরো গভীরভাবে উপলব্ধি করার এবং তাঁর অনুসৃত পথে চলার সৌভাগ্য আমরা পেয়েছি, এজন্যেও করুণাময়ের কাছে আরো শুকরিয়া জানাই।

 

২৫ ও ২৬ ডিসেম্বরের দুই দিনের আনুষ্ঠানিক করসেবা আমরা প্রিয় নবীজী (স) এর নামে উৎসর্গ করেছি। এ করসেবা ঈদে মিলাদুন্নবী (স) করসেবা। কোয়ান্টামে আমরা যে করসেবা করি এটি আমাদের কোনো স্ব-উদ্ভাবিত প্রক্রিয়া নয়। এটি নবীজী (স)-এর অনুসৃত পথ। তাঁর মতো করে মেহনত ও পরিশ্রমকে যেন ভালবাসতে পারি, দুর্গত ও বঞ্চিতের পাশে সাধ্যমতো দাঁড়াতে পারি এই লক্ষ্য নিয়ে আমরা করসেবা করতে চাই।

 

কেন আমরা নবীজী (স)-র মেহনতের পথ অনুসরণ করব? মহান আল্লাহ পাক নিজে সূরা আহজাবে বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আল্লাহর রসুলের মধ্যেই রয়েছে সর্বোত্তম আদর্শ।‘ জীবনের যে-কোনো ক্ষেত্রে সফলতার মানদণ্ডে নবীজী (স) ছিলেন এক অতুলনীয় আদর্শ। পার্থিব, পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক ও আধ্যাত্মিক- সবক্ষেত্রে ছিল তাঁর সফল পদচারণা।

রসুলুল্লাহ (স) এর কর্মময় জীবন আমাদের সকলের জন্যেই এক অনন্য দৃষ্টান্ত। সফল জীবনের ম্যানুয়াল হলো আল কোরআন। আর কোরআনের শিক্ষার বাস্তব রূপকার হলেন হযরত মুহাম্মদ (স)।

 

শৈশবে নবীজী () এর মেহনত :

মেহনত ও পরিশ্রমের শুরু তাঁর জীবনে শৈশব থেকেই। তিনি ছেলেবেলা থেকেই পরিশ্রমী ছিলেন। একদিন তিনি তাঁর দুধ মা হালিমাকে জিজ্ঞেস করলেন, আমার দুধ বোন দিনের বেলায় কোথায় যায়?  দুধ মা বললেন, সে বকরি চড়াতে যায়। শিশু মুহাম্মদ তৎক্ষণাৎ বললেন আমিও তো আপনার দুধ খেয়েছি । সুতরাং কাল থেকে আমিও তাকে সাহায্যের জন্যে মাঠে যাব। এ ঘটনা থেকে তাঁর দায়িত্ববোধের প্রমাণ পাওয়া যায়। এবং পরদিনই বকরি চড়াতে বোনের সাথে মাঠে গেলেন। তখনকার দিনে মরুভূমির যাত্রাপথ অনেক কষ্টকর ছিল, মরুভূমিতে পানি কষ্ট, আবহাওয়ার কষ্ট অনেকেই সহ্য করতে পারত না। কিন্তু কিশোর মুহাম্মদ বাণিজ্য যাত্রায় বেরিয়েছেন চাচাকে সহযোগিতা করার জন্যে।

 

যৌবনে নবীজ () এর মেহনত :

ইসলাম-পূর্ব যুগে আরবের গোত্রে গোত্রে হানাহানি লেগেই থাকত।এসময়ে বিভিন্ন গোত্রের মধ্যে শান্তি, ন্যায় ও প্রীতির সম্পর্ক স্থাপনের লক্ষ্যে ‘হিলফুল ফুযুল‘ নামের একটি লুপ্ত প্রতিষ্ঠানকে তিনি নতুন করে চালু করেন। শিক্ষা ও সংস্কৃতির উন্নয়ন, অনাথ ও দুস্থদের সাহায্য দান এবং সম্প্রদায় নির্বিশেষে সকলের সম্পদ ও সম্মান রক্ষা করাই ছিল এ সংগঠনের কার্যক্রম। মুহম্মদ (স) দৃঢ়তা ও ঐকান্তিক ন্যায়নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেন। মক্কাবাসী তাঁর সত্যবাদিতা ও ন্যায়পরায়ণতায় মুগ্ধ হয়ে তাঁকে ‘আল-আমিন‘  উপাধি দেয়। তিনি যে পথেই চলতেন, সবাই তাকে দেখে বলত ঐ যে আল-আমিন আসছে।

 

নব্যুয়তের পর :

৪০ বছর বয়সে নবুয়ত লাভের পড়ে শুরু হলো সত্য বাণী প্রচারের কাজ। মদীনায় হিজরত করার পরে তিনি হলেন একাধারে ধর্মীয় প্রধান, রাষ্ট্রপ্রধান, প্রধান সেনাপতি, প্রধান বিচারক। এত ব্যস্ততার মাঝেও তিনি তাঁর দৈনন্দিন কাজকর্ম নিজেই করতেন এবং কখনোই তিনি রাজা বাদশাদের মতো শাহী জীবনযাপন করেন নি। অনুসারীদের সাথে নির্দ্বিধায় মাঠে নেমে যেতেন, লাকড়ি টানার কাজ করতেও কখনো সংকোচবোধ করতেন না।

নবীজী (স) জীবনের প্রয়োজনীয় কোনো কাজকেই ছোট বা তুচ্ছ মনে করতেন না; বরং প্রয়োজনে সব কাজই নিজ হাতে সম্পাদন করতেন। তিনি নিজেই বাজার করতেন। পরিবারের সদস্যদের প্রয়োজনে তিনি কী কাজ করতে পারেন সেই খোঁজ রাখতেন এবং গৃহস্থালী কাজে অংশগ্রহণ করতেন। তাঁর ব্যক্তিগত কাজগুলো কেউ কখনো করে দিয়েছেন এমন কোনো নিদর্শন আমরা পাই না। নিজের জুতা সেলাই করতেন, ঘর ঝাড়ু দিতেন এবং নিজের মালামাল নিজেই বহন করতেন।

একবার যুদ্ধ থেকে মদিনায় ফেরার পথে বিশ্রাম নেয়ার জন্যে তিনি থামলেন। তাঁবু ফেলা হলো। সাহাবীরা প্রত্যেকে খাবার তৈরির জন্যে কাজ ভাগাভাগি করে নিলেন। নবীজী (স) দেখলেন তাঁকে কোনো কাজ দেয়া হয় নি। তিনি বললেন, আমার জন্যে তোমরা কাজ রাখো নি কেন? তারা জবাব দিলেন, আপনি আমাদের নেতা। তাই আমরা আপনাকে কোনো কাজ করতে দিচ্ছি না। আপনি বিশ্রাম নিন। মহানবী (স) বললেন, দলে প্রত্যেকে কাজ করবে আর আমি বসে বিশ্রাম নেব? এ হতে পারে না। তিনি লক্ষ করলেন কাঠ কাটার দায়িত্ব কাউকে দেয়া হয় নি। তিনি নিজেই কুঠার হাতে কাঠ কাটতে লেগে গেলেন। শ্রমের মাহাত্ম্য সম্পর্কে এক অতুলনীয় আদর্শ স্থাপন করলেন নবীজী (স)।

নবীজী তাঁর দোয়ার একটা অংশে প্রায়ই বলতেন :‘হে খোদা! আমি বেকারত্ব ও অলসতার ব্যাপারে তোমার কাছে মুক্তি চাই। ‘ তিনি আরো বলেছেন, ‘যার পানি এবং মাটি রয়েছে অথচ কর্মপ্রচেষ্টার অভাবে দারিদ্র্যক্লিষ্ট, সে আল্লাহর রহমত থেকে দূরে।’

মহানবী (স) নিজে শ্রম ব্যয় করে জীবিকা অর্জন করতেন। নবীজী (স)-কে সাহাবীরা জিজ্ঞাসা করলেন, —হে রসুল! কোন ধরনের উপার্জন শ্রেষ্ঠতর? তিনি জবাবে বললেন, ‘নিজের শ্রমলব্ধ উপার্জন। ‘ এসব হাদীস থেকে আমরা বুঝতে পারি যে পরিশ্রমী হতে নবীজী (স) বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছেন।

 

করসেবায় নবীজী (স) :

হিজরতের পর কুবার মসজিদ ও মদিনায় মসজিদে নববীর নির্মাণ করার কাজে নবীজী (স) নিজেও সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। একজন সাধারণ শ্রমিকের ন্যায় ভারী ভারী পাথর বয়ে এনে তিনি নির্মাণ কাজে সহায়তা করেন। সাহাবায়ে কেরামের ভাষ্য অনুযায়ী, নবীজী (স) সবচেয়ে বেশি পাথর বহন করেছিলেন। নবুয়তের সুউচ্চ মর্যাদায় অভিষিক্ত থাকা সত্ত্বেও এ নিয়ে তার মনে একটুও দ্বিধা-সংকোচ জাগে নি।

একবার জনৈক সাহাবী তাঁকে প্রশ্ন করলেন,‘হে আল্লাহ্‌র রসুল! আপনার সন্ধানে আমরা কখনো আপনার ঘরে এবং কখনো মসজিদে নববীতে যাতায়াত করি; কিন্তু এর কোথাও আপনাকে খুঁজে পাই না। এ পরিস্থিতিতে আমরা আপনাকে কোথায় খোঁজাখুঁজি করব?‘ তিনি অকপটে বলছিলেন,‘তোমরা আমাকে মদিনার শ্রমিকদের মধ্যে খোঁজ করো; তাহলেই পেয়ে যাবে।‘

নবীজী (স) বলছিলেন, ‘সৎ অন্ন সংগ্রহকারীই (সৎ ও পরিশ্রমলব্ধ জীবিকা) আল্লাহর প্রিয় পাত্র‘- (মেশকাত)। মেহনতের গুরুত্ব দিয়ে, সাফল্যের সূত্র হিসেবে বলেছেন ‘অক্লান্ত পরিশ্রম করো। তাহলে আল্লাহ তোমাকে পুরষ্কৃত করবেন। ‘ –বায়হাকি।

 

নবীজী (স)-র দেখানো সেবার পথ :

একবার নবীজী (স) ঈদের নামাজ পড়ে ফেরার পথে দেখেন একটি ছোট বালক গাছের নীচে বসে কাঁদছে। তিনি এগিয়ে গিয়ে মমতাভরা কণ্ঠে বালককে জিজ্ঞেস করলেন, কাঁদছ কেন? বালকটি বলল, আজ ঈদের দিন সবাই নতুন পোশাক পরে আনন্দ করছে। আমার মা-বাবা কেউ নেই, কে আমাকে পোশাক দেবে, কে আমাকে খাবার খাওয়াবে? নবীজী (স) তাকে বুকে জড়িয়ে ধরে বললেন আমারও তো মা-বাবা কেউ নেই। তুমি আমার সাথে চলো। আজ থেকে আমি তোমার বাবা, আয়েশা তোমার মা।

এক মহিলা একবার মরুভূমির মাঝে নিজের জুতায় পানি বহন করে তৃষিত কুকুরকে পান করিয়েছিল। এই ঘটনা শুনে নবীজী (স) বলেছিলেন এই মহিলা জান্নাতি। উপস্থিত সাহাবীরা বললেন, হুজুর! ওই মহিলা তো একজন পতিতা। তখন নবীজী (স) বললেন, একটি তৃষিত কুকুরকে পানি পান করানোর জন্যে আল্লাহ তার সকল গুনাহ মাফ করে দিয়েছেন।

নবীজী (স)-কে একবার এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলেন, হে আল্লাহর রাসূল। আমার মা মৃত্যুবরণ করছে। তার আত্মার মাগফেরাতের জন্যে আমি কী করব? নবীজী (স) বললেন, তার আত্মার মাগফেরাতের জন্যে কূপ খনন করো এবং তৃর্ষ্ণাতকে পানি পান করাও।

একবার নবীজী (স) মদীনা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। এর মধ্যে দেখলেন যে এক বৃদ্ধ ভিক্ষা করছে। নবীজী (স) এক সাহাবীকে জিজ্ঞেস করলেন এই বৃদ্ধ কেন ভিক্ষা করছে? তার ছেলে মেয়েরা কোথায়? নবীজী (স)-কে জানানো হলো লোকটি ক্রিশ্চিয়ান এবং তার ছেলেরা তাকে ছেড়ে চলে গেছে। লোকটির দেখাশোনা করার কেউ নেই। নবীজী (স) তখন নির্দেশ দিলেন বায়তুল মাল থেকে লোকটির ভরণপোষণের ব্যবস্থা করতে।

 

দীর্ঘ দুই যুগের পথ পরিক্রমায় কোয়ান্টাম আসলে কী করছে?

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনে আমরা নবীজী (স)-এর দেখানো পথ ধরে চলছি, তাঁর আদর্শই অনুসরণ করছি। কোয়ান্টামের লোগোতে লেখা রয়েছে, ‘সেবা উত্তম ইবাদত।‘আমাদের সামর্থ্যের মধ্যে যাকে যতটুকু সেবা করা সম্ভব তার পাশে এসে আমরা দাঁড়িয়েছি। আমরা সকল অসহায় মানুষের সহায় হবার চেষ্টা করছি। যেসব ছেলে-মেয়েদের সেই অর্থে কোনো অভিভাবক নেই, সেইসব ছেলে-মেয়েদের আলোকিত মানুষ গড়ার অভিভাবকত্বের দায়িত্ব আমরা নিয়েছি।

  • আজ লামায় কসমো স্কুল এন্ড কলেজে প্রায় হাজার শিশু আলোকিত মানুষ হয়ে গড়ে উঠছে। আপনাদের জেনে খুব ভালো লাগবে, এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে এ বছর এইচ এস সি পাশ করা আটজন শিক্ষার্থী পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় মেধা তালিকায় স্থান পেয়েছে। খো খো, হ্যান্ডবল, জিমন্যাস্টিকস, আরচ্যারিতে কসমো স্কুলের কোয়ান্টারা এখন জাতীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন।
  • ২০০৪ সালে অভিভাবকহীন শিশুদের নিয়ে প্রথমে রাজশাহীতে কোয়ান্টাম শিশুসদন এবং ২০১৪ সালে তা কোয়ান্টামমে স্থানান্তরিত হয়। বর্তমানে কোয়ান্টাম শিশুসদনে উদারনৈতিক পরিবেশে বেড়ে উঠছে অভিভাবকহীন ৭৫টি মেয়েশিশু।
  • ফাউন্ডেশন আধুনিক ব্লাড ল্যাব প্রতিষ্ঠা করে ২০০০ সালে। গত ১৫ বছরে কোয়ান্টাম স্বেচ্ছা রক্তদান কার্যক্রম সরবরাহ করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা নির্ধারিত মানের সাড়ে সাত লক্ষ রক্ত ও রক্ত উপাদান। আজ নিরাপদ রক্তের জন্যে সবাই প্রথমেই ছুটে আসেন কোয়ান্টাম ল্যাবে।
  • কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন থেকে এ পর্যন্ত মোট চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেছে এক লক্ষ পঁচিশ হাজার জন।
  • ১৯৯৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৯২টি পানির ট্যাংক, ১৯৬টি টিউবওয়েল এবং দুইটি ইঁদারা স্থাপন করা হয়েছে উপকূলীয় ও পাহাড়ি এলাকায়।
  • বান্দরবানের রাজবিলায় আত্মীয়-পরিজনহীন অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধাদের জন্যে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ‘আশ্রয়মম‘। আমরা থাকতে দেশে কোনো বৃদ্ধ-বৃদ্ধা অযত্ন অবহেলায় থাকতে পারে না।
  • ২০০৫ সালে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন শুরু করে খতনা কার্যক্রম। এ পর্যন্ত খতনা সেবা দেয়া হয়েছে ১ লক্ষ ২৮ হাজার জন দুস্থ অসহায় শিশু-কিশোর এবং পূর্ণ বয়স্ক মানুষকে।
  • সম্প্রতি ঢাকা শহরের পরিচ্ছন্নতা কর্মীদের সন্তানদের জন্যে প্রতিষ্ঠিত স্কুল ‘রাজধানী আর্দশ বিদ্যাপীঠ‘-এর  সার্বিক পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন। যে শিশুরা ভাবত বড় হয়ে তারা তাদের পূর্বপুরুষদের মতো পরিচ্ছন্নতা কর্মী হবে, কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন দায়িত্ব নিয়েছে তাদের আলোকিত মানুষরূপে  গড়ে তোলার।

সূরা বালাদের ১২-১৬ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলছেন, তুমি কি জানো ধর্মের দুর্গ কী? ধর্মের দুর্গ (নেক আমল বা সৎকর্মের সুউচ্চ স্তর) হচ্ছে (এক) দাসমুক্তি, (দুই) দুর্ভিক্ষের দিনে অন্নদান, (তিন) নিকটবর্তী এতিম বা ধূলিমলিন মিসকিন-অসহায়কে লালন।

 

আল্লামা আসাদ তাফসীরে দাস বলতে সেই সমস্ত লোক বা জনপদকে বুঝিয়েছেন যারা খাদ্য চিকিৎসা বাসস্থান ও শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আমাদের সেই কাজগুলোই করার সুযোগ করে দিচ্ছে।

 

সৃষ্টির সেবামূলক কাজের জন্যে সরকারি বা বেসরকারি কোনো ধরনের অনুদান কোয়ান্টাম গ্রহণ করে না। আমরা স্ব-অর্থায়ন, স্ব-উদ্যোগ এবং স্ব-পরিকল্পনায় বিশ্বাস করি। কোয়ান্টাম মাটির ব্যাংক হচ্ছে স্ব-অর্থায়নের প্রধান মাধ্যম। করসেবা মাটির ব্যাংক সংগ্রহ ও বিতরণের কাজ সমন্বিতভাবে করার চমৎকার একটি প্রচেষ্টা। করসেবার মাধ্যমে আমরা সকলের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দান একত্রিত করছি অনেক বড় একটি কাজ করার জন্যে। এতে যেমন দাতার কল্যাণ হচ্ছে তেমনি ভালো কাজে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে আমরাও স্রষ্টার রহমত লাভ করছি।

 

নবীজী (স) আজীবন দুঃস্থ বঞ্চিতের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করেছেন। ইহকাল ও পরকালের সফল হওয়ার জন্যে আমরা তাঁর দেখানো পথই অনুসরণ করছি। ইহকালের দান পরকালের সঞ্চয়। এবারের ঈদে মিলাদুন্নবী করসেবায় নবীজী (স)-এর নিয়তে বিশেষ দান করুন।

 

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশন আমাদের অফুরান কল্যাণের দিকে নিয়ে যাবার জন্যে বহুমুখী সৎকাজের আয়োজন করেছে। যার ভাগীদার আমরা সকলেই সমান ভাবে হতে পারি মাটির ব্যংক করসেবার মাধ্যমে। আসুন, আমরা ডিসেম্বরের শেষ কয়েকটি দিন আমাদের অর্থ, সময় ও শ্রম ভালো কাজে বিনিয়োগ করি। আর সে উদ্দেশ্যেই আমাদের সকলের চেষ্টা থাকবে কোথাও কোনো ব্যাংক যেন পড়ে না থাকে। ব্যাংক সংগ্রহের পাশাপাশি আমরা যেন আমাদের পরিচিতজনদের মাঝে নতুন মাটির ব্যাংক পৌঁছে দিতে পারি।  কারণ একজন মানুষকে দাতা হতে উদ্বুদ্ধ করতে পারলে তাঁর জীবন থেকে সমস্ত অকল্যাণ ভেসে যাবে।

 

আর কোয়ান্টামে আমরা মনে করি, সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আমাদের নির্দিষ্ট কোনো ভৌগলিক সীমারেখা নেই। শ্রদ্ধেয় গুরুজী সবার প্রতি একটি উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছেন, দেশের যে-কোনো অঞ্চলের কোনো এতিম বা অনাথের যদি খোঁজ পাই, যাদের আসলে সত্যিকারভাবে অভিভাবক বলে কেউ নেই, তাদের আমরা দায়িত্ব নিতে চাই। এই এতিমদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাতে এতিমদের সংখ্যা যাই হোক না কেন। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, এতিমের মাথার ওপর যার হাত স্বয়ং আল্লাহর হাত তার মাথার ওপরে। আর করসেবা কাজ করার মধ্য দিয়ে আমরা সেই এতিমের মাথায় হাত ভালোভাবে রাখার চেষ্টা করছি। আমাদের বিশ্বাস, আমাদের মাথার ওপর আল্লাহর হাত সবসময় থাকবে। পরম করুণাময় আমাদের সকল প্রয়াসকে কবুল করুন।

(চলবে…………)

Check Also

কোরআন শরীফে হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)

কোরআন শরীফ আরবীতে লিখা একটি বিশাল বড় কিতাব, বিশ্বের বেশির ভাগ মানুষের জন্য বিদেশী ভাষা। ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *