Home / ইসলামী জীবন / কুরবানীর জরুরী মাসায়েল
মুহাম্মদ শাহ জাহান শিক্ষক আধুনগর ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসা লোহাগাড়া ,চট্টগ্রাম

কুরবানীর জরুরী মাসায়েল

কুরবানী যাদের উপর ওয়াজিব :
==================
১ : হজ্জব্রত পালনকারীদের জন্যে কুরবানী ওয়াজিব। এ ছাড়া অন্যান্য মুসলমানদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হবার শর্ত দুটি।
এক : তাকে সাহেবে নিসাব হতে হবে। অর্থাৎ যার উপর সদকায়ে ফিতর ওয়াজিব তার উপর কুরবানী ওয়াজিব।
দুই : স্থ মস্তিষ্ক, বালিগ ও মুকীম হতে হবে। কেননা পাগল, নাবালিগ এবং মুসাফিরের উপর কুরবানী ওয়াজিব নয়।
২ : কোন অসচ্ছল ব্যক্তি যদি ১২ই যিলহজ্জ তারিখের সূর্যাস্তের পূর্বে সচ্ছল হয়ে যায় অথবা পাগল যদি সুস্থ হয়ে যায় বা, মুসাফির যদি ১২তারিখের সূর্যাস্তের পূর্বে মুকীম হয়, তাহলে তাদের উপর কুরবানী ওয়াজিব হবে।
৩ : কোন গরীব ব্যক্তি কুরবানীর নিয়তে পশু খরিদ করে থাকলে তার উপর ও কুরবানী ওয়াজিব। এমনকি কুরবানীর পূর্বে ঐ পশুটি হারিয়ে গেলে বা খোয়া গেলে আরেকটি পশু খরিদ করে কুরবানী করা ওয়াজিব হবে। { ফাতওয়ায়ে শামী। }
৪ : সাহিবে নিসাব যত বড় ধনীই হোকনা কেন, তার উপর একটি কুরবানীই ওয়াজিব হবে। {আযীযুল ফাতওয়া ৭৩০পৃষ্ঠা}
৫ : প্রত্যেক বিত্তশালীর উপর কুরবানী করা ওয়াজিব। তবে কাবিন নামায় স্বামী কর্তৃক স্ত্রীর পক্ষ হতে কুরবানী করার ওয়াদা করলে, ওয়াদা মোতাবেক কুরবানী করতে হবে নতুবা গুনাহ্গার হবে।

 কুরবানীর পশু ও তার হুকুমের বর্ণনা :
====================
ছয় প্রকার পশু দ্বারা কুরবানী করা যায়।
১. উট। ২. গরু। ৩. মহিষ। ৪. ছাগল। ৫. ভেড়া। ৬. দুম্বা।
এর বাইরে অন্য কোন পশু দ্বারা কুরবানী করলে কুরবানী হবে না।
১: কুরবানীর জন্য উট কম পক্ষে পাঁচ বৎসর বয়সের হতে হবে। গরু ও মহিষ অন্তত দুই বৎসর বয়সের হতে হবে। আর দুম্বা, ছাগল ও ভেড়া হতে হবে অন্তত এক বৎসর বয়সের।
২ : ছয় মাস বয়সের ভেড়া, দুম্বা শারীরিক দিক দিয়ে মোটা তাজায় এক বৎসরের সমতুল্য মনে হলে তা দ্বারা কুরবানী জায়িয। কিন্তু ছাগল যতই মোটা তাজা হউক না কেন তার জন্য এক বছর পূর্ণ হওয়া শর্ত। একদিন কম হলেও তার দ্বারা কুরবানী জায়িয হবে না। { রদদুল মোখতার,৫ম খন্ড ২০১পৃষ্ঠা }
৩ : গর্ভবতী জন্তু দ্বারা কুরবানী জায়িয আছে । কিন্তু অত্যাসন্ন গর্ভজাত জন্তু দ্বারা কুরবানী অবশ্যই মাকরূহ হবে। {ফাতওয়ায়ে শামী,৫ম খন্ড ২৮১ পৃষ্ঠা}
৪ : চর্মরোগ যুক্ত মোটা জন্তু দ্বারা কুরবানী করা জায়িয হবে কিন্তু দুর্বল জন্তু দ্বারা জায়িজ হবে না। { ফাতওয়ায়ে শামী ৫ম খন্ড ২৮০ পৃষ্ঠা। }
৫ : স্বভাবগত এক অন্ডকোষ বিশিষ্ট জানোয়ার দ্বারা কুরবানী জায়িয। { এমদাদুল ফাতওয়া,৩য় খন্ড ৪৭২পৃষ্ঠা। }
৬: যে জন্তু বেশী পায়খানা খায় তা দ্বারা কুরবানী জায়িয হবে না। তবে উটকে ৪০ দিন, গরু-মহিষকে ২০ দিন, ছাগল-ভেড়াকে ১০ দিন ধরে পায়খানা খাওয়া থেকে বিরত রাখলে কুরবানী জায়িয হবে।
৭: যে জন্তুর পুরুষাঙ্গ কাটা হওয়াতে সংগমে অক্ষম কিংবা বয়োবৃদ্ধ হওয়াতে বাচ্চা-জন্মানো থেকে অক্ষম হয়ে গেলে, তার দ্বারা কুরবানী জায়িয হবে। { ফাতওয়ায়ে শামী ৫ম খন্ড ২৮৪ পৃষ্ঠা।
}
৮ : কুরবানীর পশু মোটা-তাজা এবং দেখতে মানানসই হওয়া দরকার। দুর্বল, জীর্ণশীর্ণ, অন্ধ, এক পা খোঁড়া, গোড়া থেকে শিং ভাংগা, কান ও লেজ, ওলান এক তৃতীয়াংশের বেশী কাটা ইত্যাদি ত্রুটিযুক্ত পশু দ্বারা কুরবানী হয় না।
৯ : যে পশুর শিং জন্ম থেকে উঠেনি অথবা উঠার পর কিছু অংশ ভেঙ্গে গেছে তা দিয়ে কুরবানী করা জায়িয হবে।
১০ : যে জানোয়ারের একটি দাঁত ও নেই অথবা অধিক দাঁত পড়ে গেছে অথবা, জন্ম থেকেই কান নেই, তা দিয়ে কুরবানী করা দুরস্ত হবে না।
১১ : যে পশুটি কুরবানী করা হবে, তার উপর কুরবানীদাতার পূর্ণ মালিকানা সত্ত্ব থাকতে হবে। বন্ধকী পশু, কর্জকরা পশু বা পথে পাওয়া পশু দ্বারা কুরবানী আদায় হবে না।

 অংশীদারী বা যৌথ কুরবানীর হুকুম :
====================
১ : উট, মহিষ ও গরুর মধ্যে উর্ধ্ব পক্ষে সাত জন পর্যন্ত অংশীদার হতে পারবে। এর কম হলে ও ক্ষতি নেই। ভেড়া, দুম্বা ও ছাগল একজনের পক্ষ হতে একটিই কুরবানী করতে হবে।
২ : একই পশুতে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে কুরবানী করার জন্য দুটি শর্ত রয়েছে :
প্রথমত: সকল অংশীদারেরই কুরবানীর নিয়ত থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে কোন অংশীদারের কেবল গোশত খাওয়া বা অন্য কোন নিয়ত থাকলে সকলের কুরবানী নষ্ট হয়ে যাবে।
দ্বিতীয়ত : ভাগের প্রতিটি অংশ সমান হতে হবে।
৩: এক ব্যক্তি কুরবানীর জানোয়ার খরিদ করলো এবং তার ইচ্ছা যে, অন্য কোন লোককে অংশীদার বানাবে এটা দুরস্ত হবে। যদি খরিদ করার সময় গোটা গরু বা উট নিজের জন্য খরিদ করার নিয়ত করে পরে অন্য লোককে অংশীদার করার ইচ্ছা করে তাও জায়িয হবে। কেননা এক ব্যক্তির উপর এক ভাগই কুরবানী করা ওয়াজিব তবে কুরবানী ওয়াজিব নয় এমন কোন ব্যক্তি কে শরীক করা হলে তা দুরস্ত হবে না।

৪ : কিন্তু কোন গরীব ব্যক্তি নিজে একাই কুরবানীর নিয়তে একটি গরু কিনে থাকলে অন্য কাউকে ভাগ শরীক বানাতে পারবে না।

৪ : কুরবানী দাতা এক বা একাধিক অংশীদার মনে মনে ঠিক করে প্রথমে কুরবানী করলো তারপর অংশীদারদের অনুমতি নিল, তা হলে কুরবানী দুরস্ত হবে না।

৬: গাভী, বলদ, মহিষ ও উট দুই/তিন/চার/পাঁচ ছয় ব্যক্তি শরীক হয়ে কুরবানী করা জায়িজ আছে। প্রত্যেক ব্যক্তির এক ভাগ পূর্ণ হওয়ার পর অতিরিক্ত অংশে এক ভাগের কম হলেও কোন ক্ষতি নেই।

৭ : এজন্যই উল্লেখিত জানোয়ারে ছয় ব্যক্তি মিলে অংশীদার হয়ে বাকী এক ভাগে সবাই শরীক হয়ে নবী করীম সা. অথবা অন্য কোন বুজর্গ- বা অন্য কারো নামে কুরবানী দিলে তা দুরস্ত হবে।

৮: ঠিক অনুরূপ ভাবে ছয় ভাই প্রত্যেকে এক ভাগের পূর্ণ অংশীদার হয়ে বাকী সপ্তম ভাগে সবাই শরীক হয়ে তাদের পিতার নামে কুরবানী করলে দুরস্ত হবে।

৯ : তবে দুই শরীক বা ততোধিক ব্যক্তি শুধু মাত্র এক অংশে শরীক হয়ে কুরবানী করা জায়িয হবে না।

১০ : কুরবানীর জানোয়ার খরিদ করার পূর্বেই শরীকদের ঠিক করে নেয়া উত্তম এবং সকলের নিয়ত জেনে নেয়া ভাল।{ ফাতওয়ায়ে শামী, ৫ম খন্ড-২০১ পৃষ্ঠা।
}
মাসআলা : সমস্ত শরীকের মধ্যে একজন অমুসলিম থাকলেও কুরবানী জায়িয হবে না।{ মালাবুদ্দা মিনহু। }

12004030_1624486967819392_5785388061989322941_n

মৃত ব্যক্তির পক্ষ হতে কুরবানীর হুকুম :
=====================

১ : মৃত ব্যক্তি যদি অছিয়ত করে থাকে, তাহলে তার এক তৃতীয়াংশ মাল হতে তার জন্য কুরবানী করা ওয়ারিশদের উপর ওয়াজিব। এবং উক্ত কুরবানীর সম্পূর্ণ গোশত গরীব মুসলমানকে ছদকা করা ওয়াজিব।{ ফাতওয়ায়ে শামী। }
২: স্বচ্ছল অবস্থার লোকেরা নিজের ওয়াজিব কুরবানী ছাড়াও নিজ মুরব্বী, উস্তাদ, নিজের শায়খ, বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়-স্বজনদের পক্ষ থেকে কুরবানী করতে পারেন। এবং ঐ কুরবানীর গোশত ধনী-দরিদ্র সকলেই খেতে পারবে। { ফাতওয়ায়ে শামী। }
৩ : স্বীয় মাল দ্বারা নিজ নামে নফল কুরবানী করে এক বা একাধিক মৃত ব্যক্তির জন্য সওয়াব বখশিস করা ও জায়িয। এরূপ কুরবানীর গোশত ও ধনী-দরিদ্র সকলেই খেতে পারবে।

কুরবানীর গোশতের হুকুম :
==================

১: অংশীদারী কুরবানীর জানোয়ারের গোশত পাল্লা দ্বারা ওজন করে বন্টন করা ওয়াজিব। অনুমান করে বন্টন করা জায়িয হবে না।

২ : অংশীদারী কুরবানীর গোশত তিন ভাগ করে এক ভাগ নিজ পরিবারের জন্য রাখা এবং এক অংশ আত্মীয়-স্বজনদের কে দেয়া, আর এক অংশ ফকীর মিসকীন ও গরীবদের দান করা মুস্তাহাব/ উত্তম।{ ফাতওয়ায়ে শামী, হেদায়া }

৩ : তবে যদি প্রয়োজনে কেউ সম্পূর্ণ গোশত নিজেদের জন্য রাখে অথবা, সম্পূর্ণটাই দান করে দেয়, তা হলেও কোন অসুবিধা নেই। তবে বিবেক ও মানবাতার দাবী হচ্ছে, তা সকলকে নিয়েই খাওয়া এবং সাধ্যানুযায়ী গরীব মিসকীনকে দান করা।

৪ : কুরবানীর গোশত বিক্রয় করা হারাম।

৫: কুরবানীর পশু যবেহকারী ও গোশত প্রস্তুতকারীর পারিশ্রমিক গোশত বা চামড়া থেকে দেয়া জায়িয নেই। যদি দেয়া হয় তাহলে সেই পরিমাণ টাকা সদকা করে দেয়া ওয়াজিব।

৬: যে সমস্ত চাকর চাকরানী, দিন মজুর বা বাৎসরিক মজুর, বুয়া গাড়ীর ড্রাইভার মালিকের খানা খেয়ে থাকে, আমাদের দেশের প্রথা অনুযায়ী তাদের এ খাদ্য বেতনের মধ্যে গণ্য। অতএব সরাসরি শুধু কুরবানীর গোশত তাদের কে খাওয়ালে কুরবানীর গোশত বেতনের বিনিময়ে বিক্রিতে পরিণত হয়ে যায়, এ কারণে কুরবানীর গোশত সরাসরি তাদেরকে খাওয়ানো জায়িয নেই। তা সত্ত্বেও যদি খাওয়ানো হয়, তা হলে নির্ধারিত বেতন হতে কিছু টাকা বেশী দিতে হবে অথবা খানার সাথে কুরবানীর গোশত এবং অন্যান্য সাধারণ নিত্যদিনের কিছু তরকারী দিলে জায়িয হবে। এমনকি সে সময় যদি শুধু কুরবানীর গোশত দিয়ে ও খানা খায় তাহলে ও জায়িয হবে।

 কুরবানীর পশুর চামড়ার হুকুম :
=====================

১: কুরবানীর চামড়া প্রক্রিয়াজাত করে নিজেও ব্যবহার করা জায়িয।
২ : অন্য কাউকে হাদীয়া দেওয়া ও জায়িয।

৩ : যদি বিক্রয় করে তা হলে চামড়ার মূল্য গরীব মিসকীনদের কে সদকা করে দেয়া ওয়াজিব।

৪ : নফল কুরবানীর চামড়া ও গোশতের হুকুম ওয়াজিব কুরবানীর মতোই।

৫ : কুরবানীর চামড়া বিক্রয় করে তার মূল্য দিয়ে মসজিদ মেরামত, রাস্তা-ঘাট বাধা, মাদ্রাসা-মক্তব তৈরী করা জায়িয হবে না। {ফাতওয়ায়ে শামী}

৬: গরীবদের শিক্ষা, চিকিৎসা ও পুর্নবাসনের জন্যে কেউ কোন প্রকল্প গ্রহণ করে থাকলে তাতে চামড়া বা চামড়া বিক্রির টাকা প্রদান করা যায়।
৭: চামড়া পচনশীল দ্রব্য। পচার কারণে জনস্বাস্থ্যের ক্ষতি হতে পারে। তাই পচা চামড়া মাটিতে পুঁতে ফেলা এবং সেই সাথে পরিত্যক্ত নাড়ি-ভূড়ি সমস্ত কিছু মাটিতে গভীর খাদ খুড়ে মাটি চাপা দেয়া উচিৎ।
৮ : কুরবানীর পশুর রশি ইত্যাদি গরীবদের কে দান করে দিতে হবে। নিজের কাজে ব্যবহার করতে পারবে না।

 কুরবানীর পশু যবেহ করার মাসায়েল :
====================

১: পশুকে বাম বাহুর উপর শুইয়ে কেবলা মূখী করে যবেহ করতে হবে। কেবল উটের বেলায় এ নিয়ম প্রযোজ্য হবে না। কারণ, উটকে করতে হয় নহর। অর্থাৎ পা বেঁধে দাঁড় করিয়ে ধারালো বর্শা অথবা ছুরি গলোদেশে অর্থাৎ শ্বাসনালীতে ঢুকিয়ে রক্ত প্রবাহিত করে দেয়া সুন্নাত। উট ব্যতীত অন্য জন্তুর বেলায় যবেহ করাই সুন্নাত।

২ : নিজের কুরবানী নিজে যবেহ করাই উত্তম। যবেহ করতে অক্ষম ব্যক্তি এবং নারীরা নিজ নিজ কুরবানী অবলোকন করবেন।

৩: ভাগের পশুকে সকল অংশীদার একত্রে ধরে শুইয়ে যবেহ করা উত্তম।
নিজ কুরবানী নিজ হাতে করা এবং অবলোকন করার মাধ্যমে কুরবানকারীর অন্তরে এ অনুভূতি জাগ্রত হয় যে, আমি আল্লাহর দেয়া সম্পদ কুরবানী করছি। এ পশুর রক্তের মতোই আমি আল্লাহর রাহে আমার বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিতে প্রস্তুত আছি।
৪ : শুধু দিলে দিলে কুরবানীর নিয়ত করলেই যথেষ্ট হবে। মৌখিক ভাবে বলা জরুরী নয়। তবে যবেহ করার সময় “বিছমিল্লাহি আল্লাহু আকবার” মুখে বলা জরুরী/ফরয। যদি কেউ ইচ্ছা পূর্বক বিছমিল্লাহ না বলে, তা হলে পশু হালাল হবে না।

৫: যবেহকারীর সাথে যারা ছুরি বা তলোয়ার ধরবে তাদের সকলকেই “বিছমিল্লাহ” পড়তে হবে। যদি কেউ কেউ না পড়ে, তাহলে উক্ত পশুর গোশত হালাল হবে না। { ফাতওয়ায়ে শামী ও কাজী খান। }

৬: যবেহকারীর মুখ কেবলার দিকে হওয়া সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ্। ওজর ব্যতীত বাদ দিলে মাকরূহ হবে।

৭ : যবেহের শরীয়ত সম্মত নিয়ম হলো : শ্বাসনালী, খাদ্য নালী ও তার দুই পার্শ্বে দুইটি রক্তের মোটা রগ এই চারটি জিনিস কাটা। কমপক্ষে তিনটি কাটলে খাওয়া হালাল হবে, নতুবা হারাম হবে। উক্ত চার রগের পর সম্পূর্ণ গলা কর্তন করা মাকরূহ। { ফাতওয়ায়ে শামী। }

৮: প্রত্যেক হালাল পশুর ৭টি অংশ ব্যতীত সবটুকুই খাওয়া হালাল । কেবল সাতটি জিনিস খাওয়া যাবে না। সাতটির মধ্যে একটি হারাম এবং ছয়টি মাকরূহ তাহরীমী।
১. প্রবাহিত রক্ত যা যবেহের পর রগ থেকে স্ববেগে বের হয়, তা হারাম।
২. পুরুষ পশুর পুরুষ অঙ্গ।
৩. মহিলা পশুর পেশাবের স্থান/স্ত্রী অঙ্গ।
৪. অন্ডকোষ।
৫. পেশাবের ঝুলি।
৬. পীতের থলে।
৭. মাংসের গ্রন্থি, যা অধিকাংশ সময় চামড়া ও গোশতের মধ্যবর্তী স্থানে হয়ে থাকে। অর্থাৎ গোশতের উপরিভাগে এবঙ চামড়ার নি¤œ ভাগের গুটি।
৯ : বিছমিল্লাহ পড়ার পর যদি জানোয়ার পালিয়ে যায়, তবে দ্বিতীয় বার যবেহ করার সময় বিছমিল্লাহ পড়া ওয়াজিব।

১০ : কুরবানীর জানোয়ার যবেহ করার সময় অংশীদার উপস্থিত হওয়া অথবা প্রত্যেকের নাম উল্লেখ করা জরুরী নয়। হ্যাঁ অংশীদারদের উপস্থিত থাকা উত্তম।

১১ : ঘাড়ের উপর দিয়ে কুরবানীর পশু যবেহ করলে তা খাওয়া হারাম হবে। তবে উপর দিক থেকে যবেহ করার পর প্রাণ বের হওয়ার পূর্বে নালী সমূহ কেটে দিলে জায়িয হবে, কিন্তু মাকরূহ হবে। { বদায়ে ৫ম খন্ড ৮০ পৃষ্ঠা।
}
১২ যবেহের নিয়মনীতি জানে ও বিছমিল্লাহ পড়ে। { মাজমাউল আনহার ২য় খন্ড ৭৮৯ পৃষ্ঠা। }

১৩: ভাল জানোয়ার কুরবানী করার সময় যদি ক্রটিময় হয় যেমন, পা ভেঙ্গে গেল, তা সত্ত্বেও কুরবানী সহীহ হবে। {ফাতওযায়ে শামী ৫ম খন্ড ২৮৪ পৃষ্ঠা।}

 পশু যবেহ করার মাসনূন পদ্ধতি :
====================

যবেহ করার সুন্নাত তরীকা এই যে, যবেহ করার পূর্বে ছুরি উত্তম ভাবে ধার/তেজ করে নিবে এবং যবেহকারী কিবলামূখী হয়ে দাঁড়াবে এবং যবেহের জন্য পশু কেবলামূখী করে শুয়াবে এবং নি¤েœর আয়াত শরীফ পাঠ করবে ঃ
اِنِّىْ وَجَّهْتُ وَجْهِىَ لِلَّذِىْ فَطَرَ السَّموَاتِ وَالْاَرْضَ حَنِيْفًا وَّمَا اَنَا مِنَ الْمُشْرِكِيْنَ- اِنَّ صَلَاتِىْ وَنُسُكِىْ وَمَحْيَاىَ وَ مَمَاتِىْ للهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ- لَاشَرِيْكَ لَه وَ بِذَا لِكَ اُمِرْتُ وَاَنَا اَوَّلُ الْمُسْلِمِيْنَ- اَللّهُمَّ لَكَ وَ مِنْكَ-
“আমি সকল দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে একনিষ্ঠ হয়ে ঐ আল্লাহর দিকে দৃষ্টি নিবদ্ধ করর্ছি যিনি আসমান যমীন সৃষ্টি করেছেন এবং আমি কখনো শিরক কারীদের মধ্যে নই। নিশ্চয়ই আমার নামায, আমার কুরবানী আমার জীবন ও আমার মরণ সব কিছুই আল্লাহ রাব্বুল আলামীনের জন্যে। তার কোন শরীক নেই, আমাকে তারই নির্দেশ দেয়া হয়েছে এবঙ আমি সকলের আগে তার অনুগত ও ফরমাবরদার। হে আল্লাহ! এ তোমারই জন্যে পেশ করা হচ্ছে এবং এ তোমারই দেয়া”। { মিশকাতুল মাসাবীহ্ }
তারপর بسم الله الله اكبر বলে যবেহের কার্য্য সমাধা করবে এবং যবেহ করার পর নি¤œ লিখিত দোয়া পাঠ করবে।
اَللّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنِّى كَمَا تَقَبَّلْتَ مِنْ حَبِـيْبِكَ مُحَمَّدٍ وَخَلِيْلِكَ اِبْرَاهِيْمَ عَلَيْهِمَا السَّلَامُ-
“হে আল্লাহ! তুমি এ কুরবানী আমার পক্ষ থেকে কবুল কর, যেমন তুমি তোমার পিয়ারা হাবীব মুহাম্মদ সা. এবং তোমার খলীল ইবরাহীম আ. এর কুরবানী কবুল করেছিলে”।

 কুরবানীর আদাব :

১: কুরবানকারীর জন্যে এটা উত্তম যে, যে দিন কুরবানীর পশু যবেহ করা হবে তার কিছু দিন পূর্বেই কুরবানীর পশু সংগ্রহ করে তাকে লালন-পালন করবে। কেননা আল কুরআনে কুরবানীকে সম্মান করার ঘোষণা এসেছে :
وَ مَنْ يُّعَظِّمْ شَعَا ئِرَاللهِ فَاِنَّهَا مِنْ تَقْوَى الْقُلُوْبِ –
“কেউ আল্লাহর নাম যুক্ত বস্তু সমূহের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করলে তা তো তার হৃদয়ের আল্লাহ ভীতি প্রসূত”। { সূরা আল হজ্জ -৩২। }

২: এক জানোয়ারের সামনে অন্য জানোয়ার কে যবেহ না করা মুস্তাহাব।

৩ : জানোয়ারের প্রাণ পূর্ণভাবে বের হয়ে যতক্ষণ পর্যন্ত জানোয়ার ঠান্ডা না হয়, ততক্ষণ পর্যন্ত চামড়া না খোলা এবং গোশ্তের কোন অংশ না কাটা উচিৎ। কারণ, এতে জানোয়ারের কষ্ট হয়। { রদ্দুল মোখতার ১৮৮ পৃষ্ঠা। }

সংকলনেঃ মুহাম্মদ শাহ জাহান কুতুবী
শিক্ষক
আধুনগর ইসলামিয়া ফাযিল মাদরাসা
লোহাগাড়া, চট্টগ্রাম

Check Also

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের ২৫ ও ২৬ ডিসেম্বরের দুই দিনের আনুষ্ঠানিক করসেবা (মাটির ব্যাংক)

ঈদে মিলাদুন্নবী (স) করসেবা——————————————————— ২৫ ডিসেম্বর, ২০১৫ নবীজী (স)-এর অনুসৃত মেহনতের পথই সাফল্যের পথ আমরা ...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *