Home / তিতাসের খবর / জিয়ারকান্দি ইউনিয়ন / কুমিল্লার তিতাসে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ॥ পরিবারের আহাজারি

কুমিল্লার তিতাসে প্রবাসীর স্ত্রীকে হত্যার অভিযোগ॥ পরিবারের আহাজারি

দাউদকান্দি প্রতিনিধি॥
২২ জানূযারি রোববার কুমিল্লার তিতাস উপজেলার জিয়ারকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের প্রবাসী আমির হোসেনের স্ত্রী হাওয়া বেগম (৩০) কে তার স্বামীর পরিবারের লোকজন হত্যা করেছে বলে অভিযোগ করেন নিহতের মা, বোন ও ভগ্নীপতি ছাদেক মিয়া।
জানা যায়, প্রায় ১৪ বছর পূর্বে দাউদকান্দি উপজেলার সুন্দলপুর ইউনিয়নের চখমখোলা গ্রামের মৃত মোর্শেদ মিয়ার কন্যা হাওয়া বেগমের সঙ্গে বিয়ে হয় তিতাস উপজেলাধীন জিয়ারকান্দি পূর্বপাড়া গ্রামের মৃত গোলাম আলীর পুত্র আমির হোসেনের। বিয়ের পর থেকেই স্বামী ও তার পরিবার দফায় দফায় মোটা অংকের যৌতুক দাবি করে হাওয়ার পরিবারের কাছে। হাওয়ার বাবা-মা বিয়ের সময় ১ লক্ষ ৫০ হাজার ও পরে বিল্ডিং তৈরির সময় ধারদেনা করে ৮ লক্ষ টাকা যৌতুক দিলেও মন ভরেনি আমির হোসেন ও তার পরিবারের। তারা আবারও যৌতুক দাবি করে নির্যাতন চালায় হাওয়ার উপর। হাওয়ার পরিবার যৌতুক দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আজ ২২ জানুয়ারি রোববার দুপুর ২টায় তাকে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন নিহতের পরিবার।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাওয়ার লাশ পড়ে আছে রাস্তার পাশে, বাড়ির মূল গেইটের সামনে। হাওয়া বেগমের ১৩, ৮ ও ২ বছরের ৩ মেয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে অভিযুক্ত ঘাতক শাশুড়ি-বানু বেগম, ননস-রুবি আক্তার, ভাশুর-হারুন মিয়া, দেবর-আলমগীর হোসেন ও ভাশুরের দুই ছেলে শামীম ও আবু তাহের। উল্লেখ্য যে, অভিযোগ রয়েছে ১৪ বছর আগে আমির হোসেনের বড় ভাই মনির হোসেনের স্ত্রী হোসনেয়ারা আক্তারকে হত্যার পর গুম করে তার স্বামীর পরিবার। হোসনেয়ারার মা ফজিলতেন্নেছা জানান, ‘আমার বাড়ি এই গ্রামেই। আমার মেয়েকে এই পরিবারের মনির ভালোবেসে বিয়ে করেছিল। যার ফলে পরিবারের লোকজন অনেক নির্যাতন করত আমার মেয়ের উপর। ১৩ বছর আগে আমার মেয়ে হোসনেয়ারাকে মেরে গুম করে ফেলে তার ভাশুর হারুন মিয়া, ননস রুবি আক্তার ও দেবর আলমগীর হোসেন। যার কোন খোঁজ এখনও পাওয়া যায়নি। আল্লাহ তায়ালার কাছে আমরা এর বিচার চাই’।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাওয়া আক্তার খুব ভদ্র স্বভাবের মানুষ ছিলেন। কারো সঙ্গে ঝগড়া-বিবাদ কিংবা মনোমালন্য করতে দেখা যেত না তাকে। এলাকার কেউ কেউ ও নিহতের পরিবার বলেন, হাওয়ার ভাশুরের ছেলে শামীম ও আবু তাহের জোরপূর্ববক আমির হোসেনের নতুন বিল্ডিং-এ এসে বসবাস করত। শুধু তাই নয়, তারা প্রায়ই মারধর করত হাওয়াকে। কারো কারো ধারণা, ধারাবাহিক নির্যাতনের ফলে হয়তো হাওয়া আত্মহত্যা করে থাকতে পারে। তবে এর দায়ভার নিতে হবে মনিরের পরিবারকেই ‘।
এব্যাপারে তিতাস থানার এসআই কমল মালাকার বলেন,‘আমরা লাশটি প্রবাসী আমির হোসেনের বাড়ির সামনে রাস্তায় পেয়েছি। লাশটি কুমিল্লা মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের পরই বলা যাবে আসল ঘটনা কি’।
জিয়ারকান্দি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) শামীম আহমেদ বলেন.‘ আমি আজ দুপুর ১টায় বিশেষ কাজে ঢাকায় চলে যাই। এব্যাপারে আমি কিছু জানি না। তবে এ বিষয়টি আমি শুনেছি’।

মো. আলী আশরাফ খান
গৌরীপুর, দাউদকান্দি, কুমিল্লা।
তারিখ:২২/০১/২০১৭

Check Also

আজ তিতাস উপজেলায় ৪৮ তম জাতীয় স্কুল ও মাদ্রাসার গ্রীষ্মকালীন খেলাধূলার ফাইনাল প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন – হোমনা-তিতাসের গণ মানুষের নেতা ও মাননীয় জাতীয় সংসদ ...