Home / আন্তর্জাতিক / কক্সবাজারে ওআইসি প্রতিনিধিদল: রাখাইনে শান্তিরক্ষী মোতায়েন দাবি রোহিঙ্গাদের

কক্সবাজারে ওআইসি প্রতিনিধিদল: রাখাইনে শান্তিরক্ষী মোতায়েন দাবি রোহিঙ্গাদের

৭ জানুয়ারী ২০১৮: ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্মানেন্ট হিউম্যান রাইটস কমিশন (আইপিএইচআরসি) বাংলাদেশে তাদের তিনদিনের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন পরিচালনা শেষে জানিয়েছে, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতা জাতি নিধন ও মানবতার বিরুদ্ধে ভয়াবহ অপরাধের প্রমাণ।
ওআইসি মানবাধিকার কমিশন মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর নৃশংস নির্যাতন, অকল্পিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের কড়া নিন্দা জানিয়েছে।

ওআইসির এ কমিশন মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের কাছে রাখাইনে মানবাধিকার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের জন্য বার বার অনুমতি চায়। কিন্তু তারা কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয় নি। ফলে তারা কক্সবাজারে রোহিঙ্গাদের আশ্রয়শিবিরগুলো পরিদর্শন করে।

আইপিএইচআরসি জানিয়েছে, মিয়ানমারে সংখ্যালঘু রোহিঙ্গারা এখনও ভয়াবহ নির্যাতন ও প্রাতিষ্ঠানিক মানবাধিকার লঙ্ঘনের শিকার হচ্ছে। জাতি, ধর্ম ও বর্ণের কারণে তাদের ওপর ভয়াবহ আকারে এ নির্যাতন চালানো হচ্ছে।
অবিলম্বে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বন্ধে পদক্ষেপ নিতে মিয়ানমার সরকারের কাছে উদাত্ত আহ্বান জানিয়েছে ওআইসির আইপিএইচআরসি। একইসঙ্গে নৃশংসতার জন্য যারা দায়ী তাদের বিচারের আহ্বান জানানো হয়েছে। রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের শিকড় সন্ধানে কঠোর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, ওআইসির সদস্য দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের মানবাধিকার রক্ষায় তাদের আন্তর্জাতিক বাধ্যবাধকতা পূরণে যে যা পারেন সেই ব্যবস্থা নিতে। আহ্বান জানানো হয়েছে রোহিঙ্গাদের জন্য সার্বিক মানবিক সহায়তার।

মিয়ানমারের ভেতরে যেসব রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়েছেন এবং যারা নৃশংসতা থেকে পালিয়ে প্রতিবেশী বিভিন্ন দেশে শরণার্থী হয়েছেন তাদের জীবনমানের উন্নয়নের জন্য অবদান রাখতে আহ্বান জানানো হয়েছে।
এদিকে, বাংলাদেশে আশ্রিত রোহিঙ্গারা তাদের দেশে ফিরে যাবার ব্যাপারে সেখানে উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করার জন্য ওআইসি মিশনের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে কক্সবাজারস্থ রোহিঙ্গা এডুকেশন ডেভলপমেন্ট-এর সাধারণ সম্পাদক জমির উদ্দিন রেডিও তেহরানকে বলেন, মিয়ানমারে ফেরত যাবার আগে রোহিঙ্গারা তাদের নিরাপত্তা, নাগরিক হিসেবে তাদের অধিকারের নিশ্চয়তা চায়। এ জন্য সর্বপ্রথম সেখানে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন করার দাবি করেছে তারা। তাছাড়া, তারা তাদের লুণ্ঠিত মালামাল ফেরত বা ক্ষতিপুরণ দাবি করেছে এবং তাদের নামে দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার দাবি করেছেন।

ওদিকে, আজ (শনিবার) ভারতের দ্য টেলিগ্রাফ পত্রিকায় খবর বেরিয়েছে যে, রোহিঙ্গাদের ভালো বেতনে কাজ ও উন্নত জীবনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে পাচার করা হচ্ছে। এমনকি তাদেরকে দাস হিসেবে বিক্রি করা হচ্ছে।

ভারতের মথুরাতে উদ্ধার হওয়া ৪৫ বছর বয়সী এক রোহিঙ্গার মুসলমানের উদ্ধৃতি দিয়ে রিপোর্টে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের আশ্রয় শিবির থেকে তাদেরকে পাচার করে নিয়ে ভারতে বিক্রি করা হয়েছে। ন্যাশনাল ক্যাম্পেইন কমিটি ফর ইরাডিকেশন অব বন্ডেড লেবার-এর আহ্বায়ক নির্মল গোরানা গত মাসে এমন দাসত্বের শিকার ১৩ রোহিঙ্গাকে উদ্ধার করেছেন।

Check Also

কুমিল্লায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট ● কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমান চিকিৎসাসেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবা’হিনী, কুমিল্লা এরিয়া। ...