Home / জাতীয় / এ কে খন্দকারের ‘১৯৭১: ভেতরে-বাইরে’; প্রত্যক্ষদর্শী সংগঠকদের অভিমত

এ কে খন্দকারের ‘১৯৭১: ভেতরে-বাইরে’; প্রত্যক্ষদর্শী সংগঠকদের অভিমত

৬ সেপ্টেম্বর (তিতাস নিউজ): বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের উপ অধিনায়ক, আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) এ কে খন্দকারেরমুক্তিযুদ্ধ নিয়ে লেখা সদ্য প্রকাশিত ‘১৯৭১: ভেতরে-বাইরে’ বইটি তোলপাড় ফেলেছে সর্বমহলে। প্রথমা প্রকাশন থেকেসম্প্রতি প্রকাশিত ‘১৯৭১ ভেতর বাইরে’ বইয়ে এ কে খন্দকার বীর উত্তম লিখেছেন, ৭ মার্চের ভাষণ ‘জয় পাকিস্তান’ বলে শেষ করেছিলেন বঙ্গবন্ধু। আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ছিল বলে না বলেও লিখেন তিনি। বইটির এমন বক্তব্য নিয়ে বিব্রত ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলের নেতারা বইটি নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি এ কে খন্দকারকে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্ট আখ্যা দিয়ে বিচার দাবি করেছেন।

এ বিষয়ে ৭ মার্চের জনসভার অন্যতম সংগঠক, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি’র (জাগপা) সভাপতি শফিউল আলম প্রধানের অভিমত, কে কি বললো, তার চেয়ে বড় বাস্তবতা হলো, সেদিন বঙ্গবন্ধু জয় পাকিস্তান বলে বক্তব্য শেষ করেছিলেন। রেডিও তেহরানকে তিনি আরও বলেন, সত্য কথাটা এ কে খন্দকার লিখেছেন, তিনি না লিখলেও কোন যায় আসে না। কেননা সত্য আপন নিয়মে প্রকাশিত হয়। ইতিহাস নিয়ে খেলা করা যায় না। ৭ মার্চের জনসভায় শুধু শ্রোতা হিসেবে নয়, একজন আয়োজক হিসেবে উপস্থিত ছিলাম। সেখানে জয় পাকিস্তান বলে বঙ্গবন্ধু বক্তব্য শেষ করেছিলেন তা প্রমাণের জন্য আমার কোন সাক্ষী দরকার নেই। এ কথা সেখানে উপস্থিত লাখো মানুষের মুখে মুখে আজও ফিরে। কিন্তু এ কে খন্দকার সরকারের কাছের লোক হিসেবে এ সত্য উচ্চারণ করায় চারদিকে সাড়া পড়েছে।

বঙ্গবন্ধু ৭ মার্চের ভাষণে জয় পাকিস্তান বলেছিলেন বলে জানিয়েছেন বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী। রেডিও তেহরানকে তিনি বলেন, এ কে খন্দকারের লেখা বইটি আমি পড়ছি। তাকে যে মাপের মানুষ বলে মনে করতাম, তার লেখায় তা দেখা যাচ্ছে না। ৭ মার্চের ভাষণকে তিনি যেভাবে বিতর্কিত করেছেন, তা ভবিষ্যতে জাতি তাকে নিন্দা করবে। এখানে জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান বলায় কোন যায় আসে না। পাকিস্তান রাষ্ট্র ছিল বলেই জয় পাকিস্তান বলেছিলেন। যেভাবে একটি ভূখণ্ডকে স্বাধীন করতে হয়, যখন যেটা বলা দরকার, বঙ্গবন্ধু সেটা পেরেছিলেন বলেই আমরা স্বাধীন হতে পেরেছি। কিন্তু এ কে খন্দকার, ৭ মার্চের ভাষণ এবং সেই সময় যুদ্ধ করলে কত ভাল হতো না হতো- এমন যে মূল্যায়ন করেছেন তা তার নিবুর্দ্ধিতার শামিল।

কাদের সিদ্দিকী আরও বলেন, ওনার বইয়ে কোনো ইতিহাসের ঘটনা নাই। তিনি যা ভেবেছেন, তা তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন পাকিস্তানি দৃষ্টিভঙ্গিতে। তিনি সেনানিবাসে ছিলেন, সেখানে থেকে সামরিক দৃষ্টিকোন থেকে বিচার করেছেন। শেখ হাসিনার সরকার তাকে যে মর্যাদায় দিয়েছিল সেখানে থেকে, স্বাধীনতার ৪৩ বছর পর এমন মূল্যায়ন এ কে খন্দকারের জন্য ক্ষতিকর হবে বলেই মনে করেন তিনি।#

Check Also

কুমিল্লায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট ● কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমান চিকিৎসাসেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবা’হিনী, কুমিল্লা এরিয়া। ...