Home / জাতীয় / এ কে খন্দকারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা: বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া

এ কে খন্দকারের বিরুদ্ধে মানহানির মামলা: বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া

১১ সেপ্টেম্বর (তিতাস নিউজ): বাংলাদেশ মুক্তিবাহিনীর উপ-প্রধান ও সাবেক পরিকল্পনামন্ত্রী এ কে খন্দকারের বিরুদ্ধে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় একটি আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। আদালত আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর এই মামলার আদেশের তারিখ নির্ধারণ করেছেন।

বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সানজিদা আফরিন দিবার আদালতে এই মামলা দায়ের করেন মুক্তিযুদ্ধকালীন  পূর্বাঞ্চলের মুজিব বাহিনীর অধিনায়ক ও সাবেক যুগ্ম সচিব এম ইসহাক ভূঁইয়া।

মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট তানভির ভুঁইয়া জানান, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করায় ৫০০ ও ৫০১ ধারায় তার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, এ কে খন্দকার তার সদ্য প্রকাশিত  ‘১৯৭১ ভেতর বাইরে’ নামক বইয়ে লিখেছেন, মুজিব বাহিনীর কিছু সদস্য যুদ্ধের সময় লুটপাটে নেতৃত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও এই বাহিনীর বেশিরভাগ সদস্যকে যুদ্ধের ময়দানে দেখা যায়নি। এই জাতীয় লেখা মুক্তিযুদ্ধ ও মুজিব বাহিনীর জন্য মানহানিকর।

মামলা দায়েরের সময় বিপুল সংখ্যক আওয়ামী আইনজীবী ও মুক্তিযোদ্ধা উপস্থিত ছিলেন।

একে খন্দকারের বিরুদ্ধে  মামলা দয়ের প্রসঙ্গে  ৭১-এর মুক্তিযোদ্ধা পটুয়াখালি জেলার সুবিদখালির বাসিন্দা আবদুল আজিজ মল্লিক রেডিও তেহরানকে বলেন, ৪৩ বছর আগের মুক্তিযুদ্ধের অনেক কথাই আছে যার সব কিছু প্রকাশ পেলে স্বাধীনতার গৌরব বাড়বে না। তিনি এটাও মনে করেন, মুক্তিযুদ্ধের গৌরব কারো একার নয়। আর একে খন্দকারের বইয়ে  সত্য লেখা হলে তার বিরুদ্ধে মামলা করেও জয়ী হওয়া যাবে না। মামলায় কলঙ্ক আরো বাড়বে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ আবু জাফর আহমেদ বলেন, এ কে খন্দকারের লেখা বইয়ের ব্যাপারে কারো আপত্তি থাকলে তথ্যপ্রমাণাদিসহ আর একটা বই লিখে তার জবাব দেয়া যেতে পারে। কিন্তু এ বিষয়টি আদালত অঙ্গনে টেনে নেয়ার ফলে মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের মান-সম্মানই বরং ক্ষুণ্ন হবে।

উল্লেখ্য, গত আগস্ট মাসে প্রকাশিত ‘১৯৭১ ভেতর বাইরে’ বইয়ে মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার এ কে খন্দকার বীর উত্তম লিখেছেন, বঙ্গবন্ধু তার ৭ মার্চের ভাষণ ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’ বলে শেষ করেছিলেন। আওয়ামী লীগের মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি ছিল না বলেও উল্লেখ করেছেন,সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের প্রধান ও  আওয়ামীলীগের  সাবেক  পরিকল্পনামন্ত্রী।

এ বইটি নিয়ে আওয়ামী লীগের মাঝে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অধিকাংশ আওয়ামী লীগ নেতা বইটি বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন। তারা এ কে খন্দকারকে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’, ‘ইতিহাস বিকৃতকারী’, ‘খুনি মুশতাকের প্রতি আনুগত্য প্রদর্শনকারী’ এবং ‘সংবিধান লংঘনকারী’ হিসেবেও অভিহিত করেছেন।

Check Also

কুমিল্লায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট ● কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমান চিকিৎসাসেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবা’হিনী, কুমিল্লা এরিয়া। ...