শিরোনাম :
নবীনগরে ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান ও শেখ হাসিনা একাডেমিক ভবন উদ্বোধন নবীনগরে ২৫টি ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মাঝে আশ্রয়ণ প্রকল্পের জমি সহ পাকাঘর প্রদান নবীনগরে পিস্তলসহ এক যুবক গ্রেফতার নবীনগরে মাদকাসক্ত ছেলের ছুরির আঘাতে পিতা হাসপাতালে- অবস্থা শঙ্কামুক্ত না হওয়ায় ঢাকায় প্রেরণ  নবীনগর পৌরসভার মেয়র শিব শংকর দাশ ৩ হাজার তালের চারা গাছ রোপন করেছেন নবীনগরে ২দিন ব্যাপী সাহিত্য মেলার উদ্বোধন নবীনগরে তুচ্ছ ঘটনায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ, আহত ৩০ নবীনগরে দেশীয় অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার বাড়ীতে হামলা ও ভাংচুর আটক (১)। নবীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান  ফুল মিয়ার কুলখানি সম্পন্ন নবীনগরে কৃষি মেলার উদ্বোধন
শনিবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০৬:০৬ পূর্বাহ্ন

আশুগঞ্জে ‘শিল্প ও পণ্য মেলা’ বন্ধের দাবি ব্যবসায়ীদের,নিয়ম না মেনে মেলা চালানোর অভিযোগ

প্রতিনিধির নাম / ১০৮ বার
আপডেট : বুধবার, ২৮ জুন, ২০২৩

জহির শিকদার, আশুগঞ্জ: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে অসময়ে শিল্প ও পণ্য মেলা’ শুরু হয়েছে। গত ১৪ জুলাই থেকে উক্ত শিল্প ও পন্য মেলা আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে মেলা কর্তৃপক্ষ। পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে এমন সময়ে ‘শিল্প ও পণ্য মেলা’ আয়োজনে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মাঝে অসন্তোষ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ বিষয়ে গত ২২ জুন উপজেলা নির্বাহী অফিসারের সম্মেলন কক্ষে ঈদুল আজহা উপলক্ষে আয়োজিত প্রস্তুতিমূলক সভায় ব্যবসায়িক ক্ষতির কথা উল্লেখ করে অতিদ্রুত এ মেলা বন্ধের দাবী জানান আশুগঞ্জ বাজারের স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসন কয়েকটি শর্তে আদিবাসী মহিলা উন্নয়ন সংস্থা নামে একটি সামাজিক সংগঠনকে স্থানীয় সরকারি শ্রমকল্যাণ কেন্দ্রের মাঠে (১৫ জুন থেকে ৩০ জুন) ১৫ দিনের জন্য মেলা করার অনুমতি দেয়। শুরু থেকেই মেলা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসনের শর্ত ভঙ্গ, অব্যবস্থাপনা, নিন্মমানের বিভিন্ন পণ্য বিক্রি ও অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ এমনকি দোকানে সাজিয়ে রাখা সব ধরনের পন্যের মান ও দাম নিয়ে প্রশ্ন ওঠেছে।

পবিত্র ঈদুল আযহার ঈদকে সামনে রেখে চলমান উক্ত মেলার বিরুদ্ধে নিয়ম না মেনে মেলা চালানোর অভিযোগ ও জোরালোভাবে দেখা দিয়েছে।
এছাড়া মেলাটি পক্ষকাল চলার অনুমোদন নিলেও মাসব্যাপী চলবে এমন প্রচার প্রচারনা চালাচ্ছে এলাকায়। গত ১৪ জুন আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হবার পর মেলায় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ৩৫ টি স্টল মালিক বিভিন্ন রকমের পণ্যের পশরা সাজিয়ে কেনা বেচা শুরু করে দিয়েছে। মেলার ভিতরের স্টলগুলোর মধ্যে রয়েছে কসমেটিকস, কাপড় ও ব্যাগ, চুড়ি-গহনা, কুটিরশিল্প ইত্যাদি। এছাড়া ৩টি রাইডার এবং ‘ভুতের বাড়ি’ নামে একটি প্রদশর্নীও রয়েছে। মেলায় প্রথমদিকে প্রবেশ মুল্য না নিলেও মেলা শুরুর ২ দিন পর হতে মেলা কর্তৃপক্ষ সর্বসাধারণের প্রবেশমুল্য ১০ টাকা নির্ধারণ করে দেন এবং টিকিট নিয়েই মেলায় আগত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের প্রবেশ করতে হয়।
এছাড়া প্রতিটি রাইড উপভোগে রয়েছে অতিরিক্ত ৫০ টাকার আলাদা টিকেট। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, আশুগঞ্জ বন্দর ও শিল্প নগরী হলেও এখানকার স্থায়ী ব্যবসা এলাকা সীমিত এবং মুলত আশুগঞ্জ বাজার কেন্দ্রিক। বিগত কয়েক বছরের করোনা মহামারিসহ নানাবিধ প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে ব্যবসায়ীরা বেশ ক্ষতিগ্রস্ত-ও বিপর্যস্ত হয়েছেন। করোনা মহামারি ও নানাবিধ প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে লোকসানের মুখে পড়ে বাজারের অনেকে ব্যবসায়ীরা তাদের ব্যবসা গুটিয়ে বাজার থেকে ব্যবসা ছেড়ে চলে গেছেন। আশুগঞ্জ বাজারের দোকানপাট গুলোতে মুলতঃ দুটি ঈদে বেচাকেনার মুখ দেখে ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া সারা বছর নুন্যতম বেচাকেনা করে কোন রকমে দিনানিপাত করে থাকেন। এমতাবস্থায় আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে মেলা চলা মানে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের আরো লোকসানে ফেলার উপক্রম।
এ অবস্থায় শহরের প্রাণ কেন্দ্রে শিল্প ও পণ্য মেলার আয়োজনে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষতির মধ্যে পড়বে। এ বিষয়ে আশুগঞ্জ বাজারের বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা জানায়, ঈদকে সামনে রেখে মেলা চলার কারণে সারাদিনের পরে বিকাল থেকে বাজারের বস্ত্র, কসমেটিকস, ব্যাগসহ মেয়েদের ব্যবহার্য্য দোকানগুলো একেবারেই ক্রেতাশুণ্য হয়ে পড়ে।
ঈদের আগে কিছু বেচা-কেনার আশায় তারা দোকানে অতিরিক্ত মালামাল তুললেও মেলা শুরুর কারণে এখন যেন তাদের কপাল পুড়েছে।
এ অবস্থায় বাজারের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ প্রশাসনের কাছে মেলা বন্ধের দাবী জানান। এদিকে প্রশাসনের নির্দেশনা মতে মেলায় দায়িত্বরতদের গলায় আইডি কার্ড ব্যবহার না করা, উচ্চ শব্দে মাইক বা সাউন্ডবক্স বাজানো, অব্যবস্থাপনাসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন শর্ত অমান্য করা, নিন্ম মানের পণ্য বিক্রি ও চোরাই লাইনে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে আলোকসজ্জাসহ বিভিন্ন দোকানে সংযোগ দেয়ার অভিযোগ মেলা পরিচালনা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে।।
সরেজমিনে মেলায় গিয়ে দেখা গেছে, দায়িত্বরত লোকজনের কারো কাছে কোন রকম আইডি কার্ড নেই। এমনকি দায়িত্বরতরা নিজেদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করতে অনিহা প্রকাশ করেন। তবে ‘ভুতের বাড়ি’ প্রদশর্নীর দায়িত্বে থাকা মোঃ জসিম নিজেকে মেলার কর্মচারি বলে পরিচয় দেন। নিষেধ সত্বেও উচ্চস্বরে সাউন্ড বক্স ও মাইক কেন ব্যবহার করা হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি মাইক বন্ধ করে দেন। তিনি আরো জানান, বেলা ১১ টা থেকে রাত ১০-১১ টা পর্যন্ত এসব রাইডার ও মেলা চলে। কেন স্কুল চলাকালীন সময়ে ছোট শিশু কিশোরেরা ‘ভুতের বাড়ি’ প্রদশর্নীতে টিকেট দেয়া হয়-জানতে চাইলে তিনি এসব মূলত শিশুদের জন্যই বলে জানান। এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রকৌশলী মোঃ জাহাঙ্গীর খন্দকার এসব ভীতিকর প্রদশর্নী শিশুদের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে জানিয়েছেন।
মেলায় আসা ফারজানা নামে এক তরুণী জানান,
মেলার পণ্যগুলো মুলতঃ ওয়ানটাইম ও নিম্নমানের। আবার সেগুলোর দাম বাজারের মুল্যের চেয়ে অনেক বেশি। এরচেয়ে কম দামে মার্কেট থেকে কেনা যায় জানিয়ে তিনি আরো বলেন শখের বশে কেনাকাটা করে বিব্রত হয়েছি। একই কথা জানান আইনুন্নাহার, কবিতা ও সানজিদা নামের আরো তিন কিশোরী।
এব্যাপারে আশুগঞ্জ বস্ত্র ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মাকসুদুর রহমান বলেন, সারাবছর দোকান খুলে বসে থেকে ঈদ উপলক্ষে আমাদের দোকানগুলোতে লাখ লাখ টাকার মালামাল উঠানো হয়। অথচ মেলার রমরমা প্রচারণায় ক্রেতারা মার্কেটে না এসে মেলায় ছুটছে। তার অভিযোগ, এতে একদিকে নিন্মমানের পণ্য কিনে যেমন ক্রেতারা প্রতারিত হচ্ছেন অন্যদিকে বন্দরের স্থায়ী ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন
তাছড়া উচ্চ স্বরে সাউন্ড বাজানোর কারনে অফিস আদালতের কাজ করতে পারেন না বলে জানান বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান।
মেলার বিষয়ে আশুগঞ্জ শহর শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতি গোলাম হোসেন ইপটি বলেন, সাধারণত এ জাতীয় মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি মাসে। আর ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়ে থাকে স্থায়ী মার্কেট ও বিপনী বিতানগুলো থেকে দূরে কোথাও। তিনি বলেন, আশুগঞ্জের ব্যবসায়ীরা খুব ভাল নেই। বিগত কয়েক বছরে করোনা মহামারিসহ নানা কষাঘাতে এখানকার ব্যবসায়ীরা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দুটি ঈদে বেচাকেনার আশায় সাড়া বছর দোকান ভাড়া দিয়ে কোনরকমে টিকে থাকেন ব্যবসায়ীরা। এ অবস্থায় শহরের প্রাণ কেন্দ্রে শিল্প ও পণ্য মেলার আয়োজন স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উপর চপটে আঘাত ছাড়া কিছুই নয়।
এদিকে বেশ কয়েকজনের অভিযোগ মেলায় আলোকসজ্জাসহ রাইডার,দোকানের ভিতরের বাতিসহ সমস্ত বৈদ্যুতিক আলো চলে অবৈধ বিদ্যৎ লাইনে। এটি শুধুমাত্র মিটারের নামে অস্থায়ী প্রি-প্রেইড মিটারকে কেবল বৈধতা দেখানোর অপ-কৌশল।
তবে সরকারি অনুমোদন থাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহে বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগ থেকে একটি অস্থায়ী মিটার দেয়া হয়েছে জানিয়ে যাচাই করে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন স্থানীয় বিদ্যুৎ বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের সহকারি প্রকৌশলী মোঃ জাফর আহমেদ।
এ ব্যপারে কথা বলতে মেলার আয়োজক সংগঠন আদিবাসী মহিলা উন্নয়ন সংস্থা, সিলেটের সভানেত্রী রাখিমনি সিনহার সাথে ০১৯৭৮৪৫৬৫৩৩ নম্বরে কল করলে তিনি সিসিভ করেননি।
এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ উপজেলা নির্বাহি অফিসার (ইউএনও) শ্যামল চন্দ্র বসাক জানান, ১৫ দিনের জন্য মেলাটির অনুমোদন রয়েছে বলে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চিঠি মারফত জানতে পেরেছি। উত্থাপিত অনিয়মের বিষয়গুলি তিনি তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়ে আরো বলেন, ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে তিনি অবহিত করবেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ