Home / রাজনীতি / আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করার ঘোষণা মির্জা ফখরুলের

আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করার ঘোষণা মির্জা ফখরুলের

৫ জানুয়ারি (তিতাস নিউজ): বিএনপি ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এক বছর আগের এই কালো দিনে আমরা ভোটের অধিকার হারিয়েছি। সেদিন থেকে জোর করে ক্ষমতা দখল করে আছে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ। এদের দমন-পীড়ন থেকে মুক্তির একটিই পথ ক্ষমতা থেকে তাদের সরানো। সেদিন আর বেশি দূরে নেই। জনবিচ্ছিন্ন এই সরকারের পতন আসন্ন।
সোমবার বিকেলে জাতীয় প্রেস ক্লাবে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের এক সমাবেশে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন। দিনভর রুদ্ধশ্বাস অবস্থার মধ্যে মির্জা ফখরুল এই সমাবেশে বক্তৃতা দিলেন। তিনি সবাইকে ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, এই অবৈধ সরকার জনবিচ্ছিন্ন। তারা আস্থার জায়গা হারিয়ে দমন-পীড়ন দিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতে চাইছে। এরই অংশ হিসেবে শনিবার রাত থেকে রাজধানী ঢাকাকে রণক্ষেত্র পরিণত করেছে। রেল, নৌ ও সড়ক পথ বন্ধ করে সরকার রাজধানীকে সারাদেশ থেকে বিচ্ছিন্ন করে রেখেছে।

তিনি বলেন, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের কথা বলেন। তিনি গণতন্ত্রের জন্য আপসহীন সংগ্রাম করেছেন। অথচ তার কার্যালয়ের সামনে বালুভর্তি ট্রাক, অজস্র পুলিশ রেখে তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। কিন্তু সরকার কেন এটা করছে? কারণ তাদের ক্ষমতায় থাকার নৈতিক কোনো ভিত্তি নেই।

বিএনপির এই মুখপাত্র বলেন, অবৈধ সরকার অবলীলায় প্রতিশ্রতি ভঙ্গ করছেন। তারা জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছেন। এভাবেই চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতায় থাকতে চাইছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ মুক্ত চিন্তা ও পরিবেশে বসবাস করতে চায়। অথচ আওয়ামী লীগ সেই পরিবেশ ধ্বংস করে একদলীয় শাসন কায়েম করেছে। তাদের কাছে দেশ, স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব নিরাপদ নয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, অবৈধ সরকার প্রশাসনকে দলীয়করণ করেছে। পুলিশকে পেটোয়া বাহিনী করে বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের ওপর লেলিয়ে দিয়েছে। তাদের এই নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে মুক্তি পেতে হলে সবাইকে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়তে হবে। সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমরা এক বছর অপেক্ষা করেছি। ভেবেছিলাম, তাদের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে। তারা বলেই ফেলেছে, তারা ২০৪১ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকতে চায়। তারা বলছে, গণতন্ত্র নয়, উন্নয়নই মূল কথা। হায় রে সেলুকাস!’

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘স্বাধীনতা ও গণতন্ত্রকে বাস্তব রূপ দিতে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে। আমরা বিএনপিকে ক্ষমতায় বসান, তা বলিনি। আমরা ভোটের অধিকার প্রয়োগ করতে চাই। তা ফিরিয়ে দিন।’  ভবিষ্যতে আন্দোলনকে তীব্র থেকে তীব্রতর করারও ঘোষণা দেন মির্জা ফখরুল।

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা উদ্ধৃত করে তিনি বলেন, “লাথি মার ভাঙরে তালা, যত সব বন্দিশালায় আগুন জ্বালা।”

এদিকে, সমাবেশে বক্তৃতা শেষে মির্জা ফখরুল একটি মিছিল নিয়ে প্রেস ক্লাব থেকে বের হতে চাইলে আওয়ামীপন্থী সাংবাদিকদের দুটি সংগঠন বিএফইউজে ও ডিইউজের (একাংশ) নেতারা বাধা দেন।

এ সময় সংগঠন দুটির বিএনপিপন্থি অংশের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় এবং এক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এর আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবে বিএনপি পন্থী সাংবাদিকদের উপর হামলা চালিয়েছে ছাত্রলীগ। সোমবার বেলা সাড়ে চারটার দিকে এ হামলা চালানো হয়। হামলার এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এসময় প্রেসক্লাব এলাকায় ২টি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

Check Also

সংঘর্ষে যারা জড়িত ওরা আমাদের কেউ না

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি———————————————- মুরাদনগর ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ——————————————————————————————————————– ‘সংঘর্ষে যারা জড়িত ওরা আমাদের কেউ না’ ...