Home / রাজনীতি / আওয়ামী লীগই প্রথম রাজাকারদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছে: খালেদা

আওয়ামী লীগই প্রথম রাজাকারদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছে: খালেদা

২ ডিসেম্বর (তিতাস নিউজ): বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া বলেন, “আওয়ামী লীগ সবসময় মিথ্যাচার করে যে, যুদ্ধাপরাধীর হাতে বিএনপি নাকি পতাকা তুলে দিয়েছে। কিন্তু নূর মওলানা, মোশাররফ হোসেন এদেরকে মন্ত্রী বানিয়ে আওয়ামী লীগই প্রথম রাজাকারদের হাতে পতাকা তুলে দিয়েছে।”সোমবার রাতে গুলশানে খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দলের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে এক মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। ১৯৮৬ সালে আওয়ামী লীগই জামায়াতকে সঙ্গে নিয়ে স্বৈরাচার এরশাদের অধীনে নির্বাচনে গেছে উল্লেখ করে বেগম জিয়া বলেন, ১৯৯৬ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপির বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছে। আওয়ামী লীগই নিজেদের স্বার্থে বারবার রাজাকারদের পুর্নবাসিত করেছে। জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির আন্দোলন ও নির্বাচন ছাড়া আর কোনো সম্পর্ক নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, আওয়ামী লীগ সীমান্তে পাড়ি দেয়া দল আর বিএনপি আসল মুক্তিযোদ্ধার দল। যারা কেবল মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণাই দেননি বরং রণাঙ্গনে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছে।

আমেরিকার দক্ষিণ এশিয়া বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই সম্পর্কে আওয়ামী লীগ নেতা সৈয়দ আশরাফের করা মন্তব্যের প্রতিবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “বিদেশিদের এভাবে কেউ কথা বলে? সরকারের মন্ত্রী-এমপিরা বিদেশি রাষ্ট্রদূতকে নিয়েও খারাপ ভাষায় কথা বলছেন। তারা বিএনপিকে গালি দিতে দিতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। এবার বিদেশিদেরও গালি দেয়া শুরু করেছেন। মতিয়া চৌধুরী কয়েকদিন আগে বিশ্ব ব্যাংকেও গালি দিয়েছিল।”

ক্ষমতাসীন অবৈধ আওয়ামী সরকার একের পর এক দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও স্বার্বভৌমত্ববিরোধী চুক্তি করে যাচ্ছে উল্লেখ করে বেগম খালেদা জিয়া বলেন, “আমরা জানি না সরকার দেশবিরোধী আরো কতো চুক্তি করবে। যেখানে বিএনপির জন সমর্থন বেশি সেখানে আওয়ামী লীগ কোনো উন্নয়ন করছে না। তাই এর বিরুদ্ধে দেশবাসিকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়াতে হবে।”

তিনি আরো  বলেন, “বিএনপি নির্দলীয় সরকারের অধীনে জাতীয় নির্বাচন দাবি করে আসছে বহুবার। কারণ আওয়ামী লীগের অধীনে অবাধ সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন কোনো দিন অনুষ্ঠিত হবে না। ৫ জানুয়ারি দেশে প্রায় ৯৫ শতাংশ লোক ভোট দিতে যায়নি। তাই নির্বাচন কমিশন ভোট প্রয়োগের হার প্রকাশ করতে দুই দিন সময় নিয়েছে। পরবর্তীতে এইচ টি ইমামের পরামর্শে তারা (ইসি) ৪০ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়েছে বলে দাবি করে।”

বেগম জিয়া বলেন, “বর্তমানে যারা ক্ষমতায় রয়েছে তারা অবৈধ। তারা জনগণের ভোটে নির্বাচিত নয়। তাই ক্ষমতার জোরে সংবিধানের দোহাই দিয়ে যত আইন-কানুন তৈরি করুক না কেন তার কোনো কিছুই বৈধ নয়। বিএনপি ক্ষমতায় আসলে এগুলো বাতিল করা হবে।”

ছাত্রলীগ ও যুবলীগের বর্তমান অবস্থা ও এ সরকারের দুর্বলতা তুলে ধরে খালেদা জিয়া বলেন, “ছাত্রলীগ-যুবলীগ লুটপাটে ব্যস্ত। প্রত্যেকের হাতে অস্ত্র। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আজ অস্ত্রাগার। সেখানে লেখাপড়া হয় না, হয় দখলবাজি। শিক্ষক ও সাধারণ ছাত্রদের ওপর হামলা করছে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ছাত্রলীগ মনে করে এমপি-মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী খেলে কিছু হয় না, আমরা খেলে কি সমস্যা। আর এ কারণেই ছাত্রলীগকে কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারছে এ অবৈধ সরকার।”

পিলখানা হত্যাকাণ্ডের দিন ২৫ ফেব্রুয়ারিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণার দাবি জানিয়ে খালেদা জিয়া বলেন, সেদিন ৫৭ জন চৌকষ সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৩ জন নিহত হয়েছেন। আমরা সেদিনটিকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে সরকারি ছুটির দাবি জানাচ্ছি।

আন্দোলন প্রসঙ্গে ২০ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতা খালেদা জিয়া বলেন, “বিজয়ের মাস ডিসেম্বরের পরেই আন্দোলনের ঘোষণা দেয়া হবে। ৫ জানুয়ারি দেশে কোন নির্বাচন হয়নি। নির্বাচন হলে ১৫৪ জন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয় কি করে? ৫ জানুয়ারির একতরফা নির্বাচন ঠেকানোর আন্দোলনে বিএনপি সফল হয়েছে। আমাদের ডাকে মানুষ সাড়া দিয়েছিল, এবারও সাড়া দেবে। ডিসেম্বর মাস বিজয়ের মাস, বিজয়ের মাসে মাসব্যাপী বিজয় উদযাপনের পাশাপাশি সরকার বিরোধী আন্দোলনের কর্মসূচি দেয়া হবে এবং খুনি সরকারকে বিদায় করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা হবে।”

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মুক্তিযোদ্ধা দলের সভাপতি ইশতিয়াক আজিজ উলফাত, সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ।

Check Also

সংঘর্ষে যারা জড়িত ওরা আমাদের কেউ না

সংবাদ বিজ্ঞপ্তি———————————————- মুরাদনগর ও কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামীলীগ——————————————————————————————————————– ‘সংঘর্ষে যারা জড়িত ওরা আমাদের কেউ না’ ...