Home / জাতীয় / অসহায় এক শ্যামার জীবন কাহিনী

অসহায় এক শ্যামার জীবন কাহিনী

তিতাস নদীর পাড়ে ছোট্ট একটি গ্রাম, শ্যাম নগর তার নাম, সে গ্রামের ষোড়শী কুমারী শ্যামা গায়ের রং শ্যামলা, আট-সাট দেহ, সুন্দর বলন ভংগি যে কোন মানুষকে আকৃষ্ট করে, কিছুদিন পূর্বে বিয়ে ঠিক হয়েছিল, কিন্তু বিয়ে কাজ নিস্পন্ন হবার আগেই বাবা পরপারে চলে যান, বর পক্ষ শ্যামাকে অলক্ষী ভেবে বিয়ে থেকে বিরত থাকে। এ নিয়ে শ্যামার কোন দুঃখ নেই, পৃথিবীতে মা ছাড়া শ্যামার আর কেহ নাই মা-ই তার একমাত্র অবলম্বন মা-ই তার ভাবনা, মায়ের সুখই তার সুখ, মা ও তার বিয়ে উপযুক্ত মেয়েকে নিয়ে খুব চিন্তিত, শ্রষটার নিকট তার একটাই প্রার্থণা, যেন নিজ জীবনের সকল পূন্যের বিনিময়ে হলেও মেয়ের মংগল হয়, মেয়ের জন্যই এই শক্তিহীন শরীরে, গ্রামের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের বাড়ীতে ঝিয়ের কাজ করে, বিনিময়ে উপযুক্ত পারিশ্রমিক না পেলে ও মোড়ল মাতবরদের উছিলায় তার মেয়েটি ভাল জায়গায় পাত্রস্ত হবে এই শান্তনাটুকু পায়। এভাবে কর্তাহীন সংসারে মা ও মেয়ের একাহারে অর্ধাহারে দিন যায়, পিতৃ বিয়োগের দরুন দেহ মন থেকে হাসি- আনন্দ সব বিলিন হযে যায় শ্যামার, পিতাকে তার খুব মনে পড়ে তাই হাস্য মুখটি সব সময় ফ্যাকাশে ও মলিন হয়ে থাকে, তার এই মলিন মুখ খানার দিকে তাকালে মায়ের অন্তরটা বিদীর্ন হয়ে যায়, নিজেদের অভাব আর মায়ের চিকিৎসার কথা ভেবে শ্যামা তার মাকে নিয়ে শহরে যেতে চায়, কিন্তু মায়ের অমতের জন্য আর যাওযা হয় না। গ্রামের রাজু মেম্বার সেদিন নিজেই এসে বলল,তাদের বাড়ীতে খুব হালকা কাজ, ইচ্ছে করলে মাও মেযে দু’জনেই সে বাড়ীতে থাকতে পারবে, তা ছাড়া মেযের বিয়ের জন্য যা কিছু প্রয়োজন, মেম্বার সাহেব সব কিছুর ব্যবস্থা করে দিবেন, কিন্তু তবু ও শ্যামার মা রাজী হয় না।
মেম্বারের পুর্ব-পুরুষেরা বহু অসহায় মেয়েদের বিয়ে দিয়েছেন, বহু এতিম ছাত্রদের পড়ার খরচ চালিয়েছেন, বাড়ীর মসজিদের ইমামের বেতন, আহার বাসস্থান ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করেছেন, তাই পূর্বপুরুষদের সুনাম অক্ষুন্ন রাখার প্রচ্ষেটার কমতি নেই মেম্বারের, গ্রামের ভাল মন্দ সব কাজেই তিনি অবদান রেখে চলেছেন, স্কুল,মসজিদ, মাদ্রাসা কমিটির সদস্য ছাড়াও তিনি বার্ষিক মেলা কমিটি, এবং সেই মেলার জুয়া কমিটির ও সভাপতি হয়ে থাকেন তিনি। অবশ্য তার বিশ্বস্ত সহকর্মীদের সহায়তার কারনে তার মন্দ দিকটা নিয়ে কেউ বাড়াবাড়ি করে না, নারীর প্রতিও আসক্তি আছে বেশ, বিয়ে করেছেন চারটি, প্রথম ও দ্বিতীয় স্ত্রী ছাড়া বাকি দু’জনের বয়স প্রথম স্ত্রীর প্রথম মেয়ের চেয়েও কম, এ কারনে শ্যামার মা এই লোকটাকে বিশ বছর আগে থেকে ইতর লোক হিসেবে জানে, তাই না খেয়ে মরলে ও তার বাড়িতে কাজ করবে না বলে সাফ জানিযে দিয়েছেন। অভাবী লোক বলে কেউ শ্যামাদের ধার-কর্জ দেয় না, ভিটা বেচার টাকা দিয়ে শ্যামার বাবার চিকিৎসা হয়েছে তাই এখন আর বেচার কিছু নাই, শ্যামা তার মাকে শহরে যাবার জন্য আবার অনুরোধ করলে এবার রাজী হয় ,সিদ্ধান্ত নেয়, আগামী দিনই তারা শহরে চলে যাবে, কিন্তু কোথায়?
কে দিবে তাদের নতুন করে বাচাঁর আশ্বাস, কে দিবে একটু মাথা গুজার ঠাই, এসব প্রশ্নের উত্তর জানা নেই মা ও মেয়ের কিন্তু মনের বিশ্বাস শহরে গেলে একটা ব্যবস্থা হবেই, আল্লাহ্ কাউকে না খাইয়ে রাখে না, মনের সব বিশ্বাসই সত্য হয় না, তাই চিটাগাং শহরের ষ্টেশনে নামার কিছুক্ষণ পরই শ্বাসক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যায় মা, এই অজানা অচেনা জায়গায় মায়ের হঠাৎ মৃত্যুতে শোকে-বেদনায় পাথর হয়ে যায় শ্যামা, রেল লাইনের এক পাশে মায়ের শায়িত লাশ, আরেক পাশে দাড়িয়ে আছে কতগুলো যুবক, তাদের পড়নে কালো রংয়ের গেন্জি আর গলায় মাফলার পেচানো, শোকে শ্যামা পাথর, নির্বাক হয়ে দাড়িয়ে আছে মায়ের লাশের উপরে পথচারীরা দু’একটি টাকা ফেলে চলে যায়, শ্যামা নির্লিপ্ত চোখে তাদের দিকে তাকিয়ে থাকে, সন্ধা ঘনিযে আসে, রেল –লাইন এর পাশে দাড়ানো যুবকগুলো সাহায্য করতে এগিয়ে আসে, তারা মায়ের দাফন-কাপন সহ, তাকে কাজ করে ডাল-ভাত খাওযার ব্যবস্থা করে দিবে– এই আশ্বাসে মায়ের লাশটিকে একটি গাড়ীতে তুলে দেয় বাকী দু’জন শ্যামাকে সহ একটি টেক্সীতে উঠে। রাত ১২টা, চট্টগ্রামের উত্তর খুলশী নামক স্থানের একটি বাড়ীতে ঢুকে টেক্সী, বাড়ীটির চতুর্পাশে পাহাড়ে ঘেরা, অতি মনোরম, সিগ্ধ ও নিরিবিলি এলাকা, বাড়িটির পাশের বাড়িতে বিদেশীরা ভাড়া থাকেন একটু সামনেই একটি বিউটি পার্লার, দ্বোতলা বাড়টির নীচ তলার দরজায় নক্ করার সাথে-সাথেই একজন মহিলা এসে দরজা খুলে, যুবক গুলো মহিলা থেকে কিছু টাকা নিয়ে শ্যামাকে রেখে বিদায় নেয়, এখানে শ্যামার সব অচেনা, মহিলা শ্যামাকে কাপড়-চোপড় পাল্টিয়ে খেয়ে নিবার নির্দেশ দেয়, শ্যামা কিছুই যেন বুঝে না, জানে না, এমন একটা অসহায় ভাব নিয়ে বসে রইল, মহিলা আবার খেতে নির্দেশ দিলেন এবং হাত ধরে ডাইনিং টেবিলে নিয়ে বসায়, শ্যামা জীবনে এমন টেবিলে বসে কোনদিন খায়নি তাই সে শংকিত, তার মনের মধ্যে একটা অজানা সন্দেহ বিরাজ করছে সে খেতে চায়না, মহিলা অনুরোধ করে চারটা খাওয়ানোর পর নাম ঠিকানা জানতে চায়, মহিলার সাথে প্রথম আলাপেই শ্যামার শরীর শিউরে উঠে, সে বুঝতে পারে এটা খারাপ জায়গা। মাহলা মনে মনে ভাবে দ’য়েক দিন থাকার পর সব ঠিক হয়ে যাবে, আর শ্যামা ভাবে রাত পোহালেই এ নরক স্থান থেকে পালাবে ঠিক এমন সময় হিরন নামে একজন লোক প্রবেশ করে, পরনে তার হালকা সাদা পান্জাবী, হাতে ঘড়ি, চোখে কালো চশমা, গলায় সোনার চেইন, বয়স চল্লিশোর্ধ, মহিলা হিরনের ব্যবসায়িক পার্টনার, হিরন মদ, গাজাঁ সহ নানান মাদকের আমদানি- কারক এবং নারী পাচার কারী দলের সদস্য, উচ্চবিত্ত পতিত লোকদের পতিতা সরবরাহকারী, মহিলা হিরনের খুব বিশ্বস্ত, তাই প্রথম সাক্ষাতেই শ্যামাকে দেখিয়ে বলতে থাকে, এটা নতুন আমদানি, তুমি আসার কিছুক্ষণ আগে লেংগু মাস্তান দিয়ে গেল, হিরন দাম জানতে চায়, তাদের কথা-বার্তা শুনে, ভয়, ক্রোধ, আর হতাশায় শরীর কাপছে শ্যামার। দশ্চিন্তায় তার গলা শুকিয়ে যায় আর কপাল ঘামে, মনে মনে বাচাঁর কৌশল খুজেঁ, প্রতি শ্বাসে-শ্বাসে খোদাকে স্বরন করে, মহিলা মনের আনন্দে পান চিবায় আর হিরন শ্যামার দিকে ঘন-ঘন দৃষ্টি নিক্ষেপ করে মহিলা পাশের রুমে চলে যায়, হিরন শ্যামার কাছে আসে, গায়ে হাত দিয়ে আর ও কাছে আসার আহবান করে, শ্যামা কান্না কন্ঠে মুক্তি চায়, নতুনেরা এরকমই বলে, এসো, বলেই তাকে ঝাপিয়ে ধরে, শ্যামা চিৎকার করে, সে চিৎকারে নিস্তব্দ রজনীর আকাশ বিদীর্ণ হয়, জোনাকিরা সম-বেদনা জানায়, গাছের পাখিগুলো উড়াউড়ি করে হিরনকে ভয় দেখায় আশে-পাশের ফটকে থাাকা পোষ্য কুকুরগুলো লেজ নেড়ে-নেড়ে ঘেউ-ঘেউ শব্দে কেমন যেন অস্বস্তি প্রকাশ করছে কিন্তু মানুষ নামের জানোয়ারগুলোর কানে সে চিৎকার ধ্বনি পৌছায় না, শ্যামা জ্ঞান হারিয়ে ফেলে, তার চৈতন্যহীন দেহটিকে চশমা পরিহিত শকুনের সম্মুখ থেকে কেউ সরাতে আসেনি, সকালে জ্ঞান ফিরে শ্যামার, চোখ খুলেই দেখে পাশে বসে আছে রাতের পরিচিত মহিলাটি, শ্যামা উঠে বসে, ঘৃণা আর ক্রোধে তার শরীর কাপঁছে, মহিলা কিছু বলার আগেই টেবিলে রাখা কাচেঁর বোতলটি হাতে নিয়ে খুব জোরে বসিয়ে দেয মহিলার মাথায়, প্রচন্ড রক্ত ক্ষরনে মেঝেতে টলে পরে, ভয় আর ক্রোধে শ্যামার শরীরে কম্পন শুরু হয় এবং দরজা খুলে অজানা পথের সন্ধানে দৌড়াতে থাকে।
কিছুদিন পর এক বাস ড্রাইভারের সহযোগিতায় নিজ গ্রামে ফিরে আসে, মাযের কথা কেউ জিজ্ঞাসা করলে বলতে পারে না, কান্নায় বুক ভেঙে যায়, গ্রামবাসীরা শান্তনা দেয়। শ্যামার মায়ের মৃত্যুর সংবাদটা রাজু মেম্বারের কানে গেলে তিনি শ্যামাকে বিয়ে দেবার দায়িত্ব নেয়, এ জন্য সকলে ই শ্যামাকে মেম্বারের বাড়ীতে থাকার কথা বললে শ্যামা সাফ জানিয়ে দেয়, ভিক্ষে করে খাবে তবু ও তার বাড়েিত আশ্রয় নিবে না, মেম্বার কথাটি খুব সহজে মেনে নেয়নি কারন অসহায় শ্যামাকে দেখে তার কামনার বিষ- দাঁতগুলো ফুলে উঠে, তাই যেভাবেই হউক শ্যামাকে তার চাই-ই, কয়েকদিন পর মেম্বার বিয়ের প্রস্তাব দেয়, তাতে ও বিফল হয়, তাই এ অপমানের প্রতিশোধ নিতে ফন্দি আটে, কারন রাজুর মুখে থু-থু নিক্ষেপ করেছে, তার দাড়ি ছিড়ে মুখে চুন-কালি লেপে দিতে বলেছে, শ্যামার এ কথাগুলো সে কিছুতেই হজম করতে পারছে না তাই সে কানার মাকে শ্যামার পিছনে লাগিয়ে দেয়, কানার মা নির্ধিদায় শ্যামার বিরুদ্ধে অপ প্রচার শুরু করল, লোকে বলে পর নিন্দার করনেই নাকি তার ছেলে কানা হয়েছে, কানার মা অপ প্রচারে খুবই পটু কিছুদিন আগে সে রহিমার পেটের টিউমারকে জনৈক যুবক কতৃক অপ-গর্ভ বলে অনেক কথা রটিয়েছে,
এই কানার মা শ্যামার বিরুদ্ধে অপ-প্রচার শুরু করল, এক দিনের মধ্যে সংবাদটা সারা গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল, এ কারনে শ্যামার সম-বযসীরা কেহই তার সাথে কথা বলতে সংকোচ করে, মেম্বারের সহযোগীরা এর একটা বিহিত করার প্রস্তাব দিল মেম্বার নির্দোষ শ্যামাকে ,অবৈধ কাজে দোষী বলে সাব্যস্ত করে বিচারের দিন ধার্য্য করে, ফাগুনের ২ তারিখে বিচার হবে বলে অভিমত জানতে চাইলে সকলেই সমস¦রে উক্ত দিনকে সমর্র্থন জানায় ।
আজ পহেলা ফাগুনের দিবা গত রাত, শ্যামার চোখে ঘুম নেই মিথ্যা অপবাদ আর কলংক নিয়ে বেচেঁ থাকার সাধ আর মনে জাগে না, জীবনের স্বাদ সে তিলে-তিলে ভোগ করেছে, শ্যামা জানে সে কোন দোষ করেনি কিন্তু তবু ও তার উপর কেন এই বিচারের খড়গ, প্রভাত হলেই বিচার কাজ শুরু হবে, মেম্বার ই হবেন প্রধান বিচারক, উৎসুক শত-শত গ্রামবাসী থাকবে সে বিচারে, মেম্বার রায় দিবে রায়ে হয়ত গ্রাম ছাড়া হবে কিন্তু যে গ্রামে যাবে সে গ্রামের রাজু মেম্বাররাও হয়ত শকুনের মত অপেক্ষায় আছে শ্যামারা কখন আসবে, শ্যামার হ্রদয় পটে ভেসে উঠে হিরন আর রজুর প্রেতাতœা, ভেসে উঠে ¯েœহময়ী মা আর বাবার কোমল মুখ-খানি ।
আড়াল দাড়িয়ে একটি ছায়া-মূর্তি মালা হাতে আহবান করছে মালাটি পড়ার আর কানে-কানে বলছে এ মালা শান্তির মালা, এ মালা পড়লে তোকে হিরন আর রাজু-মেম্বাররা ছুতে পারবে না, শ্যামা মালা আহবানকারীর ডাকে সাড়া দিল ।
রাত পোহানোর কিছুক্ষন পরই রাজু মেম্বারের বাড়ীর উঠানে লোকে – লোকারন্য,কারন, আজ ফাগুনের ২ তারিখ, মেম্বার সকলের বসার ব্যবস্থা করে শ্যামাকে ধরে আনার জন্য লোক পাঠায়, উঠানে বিছানো শীতল পাটিতে বসে তার সহযোগীরা নানা কথার ছলে পান চিবায়, এরই মধ্যে শ্যামাকে কুলাঙ্গিনী আখ্যা দিয়ে তার কি সাজা হতে পারে জানতে চায় উত্তর পাড়ার মুয়াজ্জিন সাব।
মধ্যপাড়ার মৌলভী সাহেবের মতে তাকে অর্ধেক মাটিতে পুতে ঢিলা নিক্ষেপ করে মারা উচিত, মেম্বারের অন্যতম সহযোগী মালু মোল্লার মতে তাকে একশত বেত্রাঘাত করা উচিত ।
পূর্বপাড়ার মজু মিঞার মতে সমস্ত চুল কেটে মাথায় আলকাতরা লাগানো উচিত আর মেম্বার সাবের অভিমত হল জুতার মালা পড়িয়ে গ্রাম হাটানো, একটা মরা গরুর মাংসকে ছিড়ে-ছিড়ে নিতে পারলে শকুনেরা যেমন তৃপ্তি লাভ করে ঠিক শ্যামাকে শাস্তি দিবার দায়িত্ব লাভ করে মেম্বার ও তার সহযোগীরা তেমন তৃপ্তি অনুভব করতে থাকে, ঠিক এমনই সময়ে হঠাৎ করেই মেম্বারের পাঠানো লোকটি ফাসিঁর মালা পরিহিত শ্যামার সংবাদ নিয়ে এলো।

মোহাম্মদ শাহজাহান
সিনিয়র সম্পাদক
তিতাস নিউজ ২৪ ডট কম

সিনিয়র শিক্ষক
জগতপুর সাধনা উচ্চ বিদ্যালয়
01823461495

Check Also

কুমিল্লায় বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা চালু করেছে সেনাবাহিনী

ডেস্ক রিপোর্ট ● কুমিল্লায় বিভিন্ন স্থানে বিনামূল্যে ভ্রাম্যমান চিকিৎসাসেবা চালু করেছে বাংলাদেশ সেনাবা’হিনী, কুমিল্লা এরিয়া। ...